Raiganj Incident : সাত পাকের আগে হাজির পুলিশ, রক্ষা পেল নাবালিকা – raiganj police rescue a minor girl from child marriage with help of kanyashree club


এই সময়, রায়গঞ্জ: মেয়ের বিয়ে দেবেন না বলে স্কুলের শিক্ষকদের সামনে মুচলেকা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্ত থেকে এক পা পিছু হটেননি বাবা। একাদশের পড়ুয়া মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেলেন তলে তলে। কিন্তু বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে ফের একরোখা হয়ে বেঁকে বসবে মেয়ে, কল্পনাও করেনি পরিবার। বাড়ির লোকজনও তখন নাছোড়।এক বান্ধবীর মাধ্যমে তার অসহায় অবস্থার কথা পৌঁছে যায় কন্যাশ্রী ক্লাবের এক সদস্যর কাছে। সে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও চাইল্ড লাইনে খবর দেয়। পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে ছুটে যায় কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরা। তাঁরা গিয়ে দেখেন, ছাদনাতলা থেকে শুরু করে বিয়ের সমস্ত আয়োজন প্রায় শেষ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সাত পাকে বাঁধা পড়বে মেয়ে।

শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে ফের একবার মুচলেকা দিয়ে নাবালিকা মেয়ের বিয়ে বন্ধ করতে বাধ্য হন বাবা। নবম শ্রেণির কন্যাশ্রীর পর এ বার উত্তর দিনাজপুরের অন্য একটি স্কুলের একাদশ শ্রেণির এই ছাত্রী নিজের বিয়ে রুখে রচনা করল তার বীরাঙ্গনা কাব্য। চাইল্ড লাইনের এক প্রতিনিধি বলেন, ‘কন্যাশ্রীদের মাধ্যমে ঠিক সময়ে খবরটা এসেছিল বলেই ওই নাবালিকার বিয়েটা আটকানো সম্ভব হলো। নইলে আর একটু দেরি হলেই তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হতো।’

বয়স আঠারোর চৌকাঠ পার হয়নি ওই ছাত্রীর। ভবিষ্যতে আরও পড়াশোনা করার ইচ্ছে নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছিল সে। কিন্তু হঠাৎ বাধ সাধেন তার অভিভাবকরা। তার অমতেই একরকম জোর করে বিয়ে ঠিক করা হয় বলে অভিযোগ। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর বাবা টোটো চালিয়ে সংসার চালান। পছন্দ মতো পাত্র পেয়ে উপযুক্ত বয়সের আগেই মেয়ের বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন বাবা। কিন্তু গোঁ ধরে বেঁকে বসে মেয়ে।

ঘটনার কথা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কন্যাশ্রী প্রকল্পের নোডাল অফিসারকে জানালে তার বাবাকে স্কুলে ডেকে এনে বোঝানোর চেষ্টা করেন শিক্ষকরা। তাঁদের কথা শুনে নিজের ভুল স্বীকার করে বাবা মুচলেকা দিয়ে জানান, উপযুক্ত বয়স হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ে দেবেন না তিনি। কিন্তু তলে তলে যে তিনি মেয়ের বিয়ের জন্য জেদ ধরেছিলেন শিক্ষকরা তা বুঝতে পারেননি। একাদশ শ্রেণির এই ছাত্রী বলে, ‘আমি পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তার আগে বিয়ে করব না।’

Raiganj Incident : কন্যাশ্রীদের তৎপরতায় বিয়ে ভেঙে স্কুলে ফিরল নাবালিকা
একাদশ শ্রেণির ওই দৃঢ়চেতা কন্যাশ্রীর সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। দিন কয়েক আগে ঠিক এভাবেই নিজের বিয়ে রুখে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছিল এই জেলারই নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। তার অকাল বিয়ে রোখার ঘটনাতেও বড় ভূমিকা নিয়েছিল কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরা।

গত ২৬ জুলাই, ঠিক বিয়ের তারিখে। স্কুলকে মুচলেকা দেওয়া সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে এক পা পিছু হঠেননি বাবা। তলে তলে মেয়ের বিয়ের সমস্ত ব্যবস্থা প্রস্তুত করে ফেলেন তিনি। কিন্তু পিঁড়িতে বসার আগে ফের একরোখা হয়ে বেঁকে বসে মেয়ে। তারই সূত্রে খবর পেয়ে এবার তার বাড়িতে ছুটে আসে কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরা। সঙ্গে আসেন স্কুলের শিক্ষক, ব্লকের কন্যাশ্রী প্রকল্পের নোডাল অফিসার পুলিশ ও চাইল্ড লাইনের প্রতিনিধিরা। এবার রীতিমতো আইনের শাস্তির কথা বলে বন্ধ করা হয় কিশোরী মেয়ের বিয়ে। দ্বাদশ শ্রেণির এই ছাত্রী বলে, “আমি পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তার আগে বিয়ে করব না।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *