এমনকী, গত তিনদিন ধরে রোজ ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার সিট গঠন করে তদন্ত শুরু করায় আরজি করের প্রাক্তন সুপারের সমস্যা বাড়ল বলে মনে করছে চিকিৎসক মহল।
অভিযোগে বিদ্ধ সন্দীপ বড় অঙ্কের হিসেবকে ছোট ছোট বরাতে ভেঙে অনলাইন টেন্ডার এড়িয়ে পছন্দের সংস্থাকে খারাপ গুণমানের ওষুধের অর্ডার দেওয়া, কিংবা কোভিড ফান্ড ব্যবহার করে আসবাব কেনা এবং চিকিৎসা-বর্জ্য মোটা টাকার বিনিময়ে পাচার করে দেওয়ার ঘটনায় আগেই অভিযুক্ত ছিলেন সন্দীপ। ২০২৩-এর ১৪ জুলাই রাজ্য ভিজিলেন্স কমিশনে এবিষয়ে চিঠিও দিয়েছিলেন আরজি করের তৎকালীন ডেপুটি সুপার আখতার আলি।
অভিযোগ, ভিজিলেন্স কমিশন তদন্ত শুরু করার কিছু দিন পরে অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত দু’জনকেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে বদলি করা হয়। অথচ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সন্দীপের বদলির অর্ডার বাতিল হয়ে যায়। তিনি বহাল তবিয়তে থেকে যান আরজি করে।
নিয়ম ভেঙে বিতর্কে অধ্যক্ষের পদ ছেড়ে সংবাদ মাধ্যমে আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ করে খুন হওয়া তরুণীর নাম একাধিকবার মুখে এনেছিলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্যাতিতা তরুণীর নাম-ছবি প্রকাশ্যে আনা যায় না। কিন্তু সন্দীপ সেই নির্দেশ অমান্য করায় তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেন এক নাগরিক। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সন্দীপকে ফের তলব সিবিআইয়ের তলব পেয়ে সোমবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ সিবিআই দপ্তরে হাজির হন আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ। এর আগে পরপর তিন দিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। তবে, বারবার বয়ান বদল করার কারণেই ফের তাঁকে তলব করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। যেভাবে ওই চিকিৎসক বয়ান বদল করছেন তাতে তাঁরও পলিগ্রাফ টেস্ট করার ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে বলে সিবিআই সূত্রের খবর।
