Agnimitra Paul: এ বার গো ব্যাক শুনলেন অগ্নিমিত্রা, ফাঁপরে বিজেপি – bjp leader agnimitra paul was facing go back slogan by junior doctors


মণিপুস্পক সেনগুপ্ত
স্বাস্থ্যকর্তাদের পদত্যাগ-সহ ছ’দফা দাবিতে মঙ্গলবার থেকে স্বাস্থ্যভবনের বাইরে ধর্নায় বসেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। বুধবার দুপুরে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল আচমকা হাজির হন সেখানে! তাঁকে দেখেই নড়েচড়ে বসেন আন্দোলনরত ডাক্তাররা। ‘জাস্টিস ফর আরজি কর’ স্লোগান মুহূর্তে পাল্টে যায় ‘গো ব্যাক’ স্লোগানে। উত্তেজনাও ছড়ায় স্বাস্থ্যভবন চত্বরে।যদিও অগ্নিমিত্রার দাবি, তিনি চিকিৎসকদের আন্দোলনে রাজনীতির রঙ লাগাতে যাননি। তিনি বলেন, ‘জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনে আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে। কিন্তু আমি ওঁদের এখানে আসিনি। এসেছি বিজেপি পার্টি অফিসে। কিন্তু দু’দিকের রাস্তাই বন্ধ। পার্টি অফিসে যাব কী ভাবে!’

জুনিয়র ডাক্তারদের বক্তব্য, ‘সাধারণ মানুষ হিসেবে যে কেউ আমাদের ধর্নায় আসতে পারেন। কিন্তু কোনও রাজনীতির রঙ লাগানোর চেষ্টা আমরা বরদাস্ত করব না। উনি আন্দোলনকারীদের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়েই সংবাদমাধ্যমকে বাইট দিচ্ছিলেন।’

সল্টলেকে স্বাস্থ্যভবনের ঠিক পিছনেই বিজেপির রাজ্য দপ্তর। আন্দোলনকারীরা পথ আগলে বসে থাকায় সমস্যায় পড়েছেন বিজেপি নেতারা। তাঁদের পার্টি অফিসে ঢুকতে গেলে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি হতেই হবে। এই আন্দোলন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে হলেও তাঁরা যে সেখানে স্বাগত নন, সেটাও এতদিনে বিলক্ষণ বুঝে গিয়েছেন গেরুয়া নেতারা।

এর আগে লালবাজার অভিযানে গিয়ে ফিয়ার্স লেনেও রাস্তায় বসে পড়েছিলেন আন্দোলনরত ডাক্তাররা। সেখানে তাঁদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে গিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁদেরও শুনতে হয়েছিল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। ফলে চিকিৎসকদের আন্দোলনের মধ্যে গিয়ে পড়লে কী হবে, সেটা আঁচ করেই বিজেপির অনেক নেতা মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকে দলের রাজ্য দপ্তরে যাননি।

আরজি কর কাণ্ডে ৪ জুনিয়র চিকিৎসককে তলব সিবিআই-এর
অগ্নিমিত্রা সব জেনেবুঝে সল্টলেক পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠক করতে কেন গেলেন, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে বিজেপির এক বর্ষীয়ান নেতার বক্তব্য, ‘সিপিএম ঘনিষ্ঠ বহু বিশিষ্টজনকে আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখছি, তাঁদের নিয়ে কোনও আপত্তি তুলছেন না চিকিৎসকেরা। যত আপত্তি বিজেপিকে নিয়ে। অগ্নিমিত্রা তো পতাকা নিয়ে সেখানে যাননি।’

গোড়া থেকেই আরজি কর ইস্যুতে নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারেনি বিজেপি। দলের অনেকেরই ব্যাখ্যা, ‘নাগরিক আন্দোলন এবং চিকিৎসকদের আন্দোলনে বামপন্থী ছোঁয়া আছে। যে সব স্লোগান তাঁরা তুলছেন, সেগুলি সবই বামপন্থী স্লোগান। যার সঙ্গে গলা মেলানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

আবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিরোধিতা করার ঝুঁকিও নিতে চাইছে না বিজেপি। তাই নাগরিক আন্দোলন থেকে দূরে থেকে পদ্ম-ব্রিগেড নিজেদের মতো করেই ধর্মতলায় ধর্না চালিয়ে যাচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *