RG Kar Protest: প্রয়াত শিক্ষিকার শ্রাদ্ধের কার্ডেও ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ – rg kar protest slogan we want justice on raiganj teacher funeral card


এই সময়, রায়গঞ্জ: শোকেও প্রতিবাদ! শ্রাদ্ধের কার্ডেও এ বার ‘উই ওয়ান্ড জাস্টিস’। জীবনের শেষ দিনগুলিতে সব কিছু ভুলে গেলেও অসুস্থ কণ্ঠেই আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন রায়গঞ্জের প্রতিমাদেবী। মৃত্যুর পরেও তাঁর প্রতিবাদের আগুনটা জ্বালিয়ে রাখল পরিবার। স্বজন হারানোর শোক বুকে নিয়েও আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হলেন সদ্য মাতৃহারা পুত্র।মায়ের শ্রাদ্ধের নিমন্ত্রণপত্রের উপরে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লিখে আত্মীয়-পরিজনদের মাঝে বিচারের দাবিকে ছড়িয়ে দিলেন শুভ্রজ্যোতি দত্ত। শোককে এ ভাবে প্রতিবাদের আগুনে পরিণত হতে আগে কখনও দেখেননি রায়গঞ্জবাসী। শুভ্রজ্যোতির প্রতিবাদ জানানোর এই পথকে তাই স্যালুট জানিয়েছেন সকলেই।

এর আগে প্রেসক্রিপশনে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লিখে আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। একই পথে ক্যাশমেমোর উপরে সেই দাবির কথা লিখে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। রাত দখল থেকে শুরু করে ছবি-গান-নাটক-গ্রাফিতির মাধ্যমে গর্জে উঠেছে কলকাতা থেকে কোচবিহার। এ বার শ্রাদ্ধের কার্ডেও উঠে এল জনতার সেই স্লোগান।

‘আর কতদিন?’ তিলোত্তমার বিচার চেয়ে তারিখ বদলে যাচ্ছেন জয়
রায়গঞ্জের নেতাজিপল্লীর বাসিন্দা প্রতিমা দত্ত ছিলেন নারীশিক্ষার জন্য নিবেদিত প্রাণ। স্থানীয় রামযতন প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল তাঁরই উদ্যোগে। বিদ্যালয়ের নামটিও তাঁরই দেওয়া। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন তিনি। বছর দুয়েক ধরে ডিমেনশিয়ায় ভুগছিলেন। ক্ষণে ক্ষণে অনেক কিছু ভুলে গেলেও, ভোলেননি কচিকাচাদের প্রতি তাঁর কর্তব্য।

তাঁর ছেলে শুভ্রজ্যোতি দত্ত বলেন, ‘মা মাঝেমধ্যেই ঘোরের মধ্যে ছেলেমেয়েদের পড়াতেন। অসুস্থতা সত্ত্বেও নিয়মিত টিভির খবর দেখা ও নিউজ় পেপার পড়া ছিল তাঁর অভ্যাস। আরজি করের ঘটনা মাকে ভীষণ ভাবে নাড়া দিয়েছিল।’

দিন কয়েক আগে বার্ধক্যজনিত রোগে প্রয়াত হন প্রতিমাদেবী। শ্মশানে মাকে দাহ করার সময়েই শুভ্রজ্যোতির মাথায় এসেছিল, মায়ের শেষ ইচ্ছেকে মর্যাদা দিতে কিছু একটা করবেন তিনি। কী সেই ইচ্ছে?

শুভ্রজ্যোতি বলেন, ‘আরজি কর কাণ্ডের খবর দেখতে দেখতে মা বারবার বলতেন, মেয়েটা যেন বিচার পায়! ১৪ অগস্ট প্রথম রাত দখলের দিন পথে নামার খুব ইচ্ছে হয়েছিল তাঁর। কিন্তু হাঁটুর ব্যথার কারণে যেতে পারেননি। পরিবারের বাকি সবাই গিয়েছিলাম। ঘটনার পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার এখনও মেলেনি। মায়ের শ্রাদ্ধের কার্ডে তাই ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লিখে পরিচিতদের মাঝে সেই দাবিকে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। মায়েরও তো শেষ ইচ্ছে ছিল এটাই!’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *