Anandapur Police Station,শহরে অভিজাত আবাসনে চালকের গলা টিপে হুমকি – kolkata resident accused of threatening a driver at posh apartment of city


এই সময়: ‘এখানে কেন পার্কিং করছিস। তুই পার্কিং করতে জানিস! আমার গাড়িতে লেগে গেলে কী হবে?’– ইএম বাইপাস লাগোয়া এক অভিজাত বহুতল আবাসন কমপ্লেক্সে গাড়ি পার্ক করতে গিয়ে এ ভাবেই হুমকির মুখে পড়েন চালক কার্তিকচন্দ্র নস্কর। শুধু তা-ই নয়, গালিগালাজ করার পর, তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এমনকী, ধাক্কাধাক্কির সময়ে গলা টিপে ধরেন অঙ্কন রাই নামে ওই ব্যক্তি।তাঁর এমন ব্যবহারে হতচকিত হয়ে যান আবাসিকদের একাংশও। এই ঘটনায় আনন্দপুর থানায় অভিযোগ করেছেন কার্তিক। তিনি বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। গাড়ি চালিয়ে খাই। আমার কোনও দোষ ছিল না। উনি আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে গালাগালি করে মারধর করেছেন।’

ঘটনাটি গত মঙ্গলবারের। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ টাওয়ার ফাইভের বাসিন্দা তথা একটি সংস্থার কর্ণধার কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আবাসনেরই জিমে যাচ্ছিলেন। ক্লাব হাউসের কাছে পৌঁছনোর পর, গাড়ি থেকে নেমে তাঁরা জিমে চলে যান। এর পর সেখানে গাড়ি পার্ক করতে যান চালক কার্তিকচন্দ্র।

তিনি বলেন, ‘যেখানে সবাই গাড়ি রাখেন, সেখানে মালিকের গাড়ি পার্ক করছিলাম। হঠাৎ এক ব্যক্তি সেখানে এসেছে জানতে চান, আমি কেন এখানে গাড়ি রাখছি? ওঁর গাড়ির থেকে অনেক দূরেই পার্ক করছিলাম। তার পর হঠাৎ গালাগালি করতে থাকেন। প্রতিবাদ করতে আমার গলা টিপে ধরেন। মারধরে আমার হাত কেটে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আনন্দপুর থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। ভয়ে আছি।’

এ বিষয়ে কৌশিক বলেন, ‘আমি তখন জিমে ছিলাম। পরে বিষয়টি জানতে পারি। একজন গরিব মানুষের উপরে কেন এ ভাবে অত্যাচার হবে? ওঁর অভিযোগ ছিল, আমার চালকও নাকি খারাপ ব্যবহার করেছেন। তা যদি সত্যি হয়, তা হলে আমাকে জানাবেন। সিকিউরিটি রয়েছে, তাঁদের বলবেন। কেন উনি মারধর করতে গেলেন? আমার গাড়িতে ক্যামেরা রয়েছে। তাতে দু’টি গাড়ির মধ্যে ধাক্কা লেগেছে এমনটাও ধরা পড়েনি। তা ওখানে সিসিটিভি রয়েছে। আসলে উনি কতটা প্রভাবশালী, তা বোঝাতে চাইছিলেন।’

কৌশিকের কথায়, ‘পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি উনি টাওয়ার ৯-এর একটি ফ্ল্যাট বুক করেছেন। সিকিউরিটি ইনচার্জকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁরা কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশও যাতে স্টেপ নেয় তা-ও আমরা দেখছি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অঙ্কন রাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কলকাতার বাইরে রয়েছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।’ আনন্দপুর থানা সূত্রে খবর, অভিযোগ পাওয়ার পর জেনারেল ডায়েরি করা হয়েছে। ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন পুলিশকর্মীরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *