দুর্গাপুজো ২০২৪,ধর্ষক ‘অসুর’! তুলনা টানায় আপত্তি – eve of sharadotsav many people wants to punishment rg kar hospital incident


এই সময়: শারদোৎসবের প্রাক্কালে দেবীর অসুর নিধনের সঙ্গে যুক্ত করে ধর্ষণের সাজা চাইছেন অনেকে। কেউ লিখেছেন — ‘এই দেবীপক্ষে ধর্ষক অসুরের বিনাশ হবেই।’ কেউ বলছেন, ‘দেবীর হাতে অস্ত্র ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ধর্ষকাসুর নিধন হবে!’ কিন্তু এমন বক্তব্যেই আপত্তি আদিবাসীদের একাধিক সংগঠন ও সমাজকর্মীদের বড় অংশের। ধর্ষকের সঙ্গে ‘অসুর’ সম্প্রদায়কে মেলানো একেবারেই ভুল হচ্ছে বলে তাঁদের মত। তাঁরাও চান যে ধর্ষকের শাস্তি হোক। কিন্তু ধর্ষককে যেন অসুরের সঙ্গে তুলনা করা না-হয়। কারণ, অসুররা এ দেশেরই মূলনিবাসী মানুষ। এ ভাবে তাঁদের অপমান করা যায় না।এর আগে করোনার সময়েও পুজোয় ‘করোনাসুর’ বধের কথা শোনা গিয়েছিল। আপত্তি উঠেছিল তখনও। আর এ বার আরজি কর-আবহে তো সরাসরি ধর্ষকদের সঙ্গে অসুরকে মিলিয়ে ফেলা হয়েছে। এ দেশে এসটি কমিউনিটির মধ্যে পড়েন অসুর-রা। ঝাড়খণ্ডের গুমলা এলাকায় মূলত তাঁদের বাস। পশ্চিমবঙ্গেও আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং মালদায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করেন অসুর সম্প্রদায়ের মানুষজন। তাঁদের এ ভাবে অপমান কোনও ভাবেই মেনে নিচ্ছেন না সমাজকর্মীরা।

যেমন, দলিত-আদিবাসী নেটওয়ার্কের অন্যতম আয়োজক শরদিন্দু উদ্দীপনের কথায়, ‘অসুর মানেই অশুভ নয়। অসুররা কোনও ভাবেই ধর্ষক নন। মহিষাসুর সম্পর্কেও দেবীপুরাণে আমরা তাঁর নারী সম্মানের রেফারেন্স পাই। প্রতিবাদ চলুক। কিন্তু ধর্ষক আর অসুরকে যেন এক করে দেখা না হয়।’ পুরুলিয়ার আদিবাসী আন্দোলনের চেনা মুখ অজিম হেমব্রমের বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতে মূলনিবাসী হিসেবে অসুররা স্বীকৃত। ধর্ষকের কোনও জাত হয় না। তাই রক্তমাংসের মানুষ এবং একটা গোটা সম্প্রদায়কে এ ভাবে অসুরের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া যায় না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। এতে আদিবাসী মানুষের অপমান হচ্ছে।’

দুর্গাপুজোর জাঁকজমকে তো প্রতি বছরই মাতেন, এ বছর দেখে আসতে পারেন ‘অসুর পুজো’

আলিপুরদুয়ারের অসুর সম্প্রদায়ের এক মহিলার কথায়, ‘আমাদের মধ্যে নারীদের স্থান সবার উপরে। সেখানে ধর্ষণ বা নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে কঠোর ব্যবস্থা নিই। দোষীদের সমাজচ্যুত করা হয়। ফলে প্রতিবাদের আগে প্রতিবাদীরা সচেতন হবেন, সেটাই আমরা চাই।’

প্রতিবাদীদের অনেকেই এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত। তাঁরা অন্যদের বিষয়টি বোঝাবেন বলেও জানাচ্ছেন। সমাজকর্মী ছন্দক চট্টোপাধ্যায় তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে এ ব্যাপারে সচেতন করে পোস্ট করেছেন। রাত দখলের অন্যতম কান্ডারি শতাব্দী দাসের বক্তব্য, ‘স্বতঃপ্রণোদিত আন্দোলনে অনেক কথাই উঠে আসতে পারে। কিন্তু আমরা মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করতে উদ্যোগী হয়েছি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *