দুর্গাপুজোর ক’টা দিনে আচমকাই বদলে যায় গোটা বাংলা। আলো-আঁধারির মায়া জড়ানো মহানগরের অলি-গলিগুলোও হঠাৎই ভরে ওঠে উচ্ছ্বাসের অনাবিল লাল-নীল-হলুদ-সবুজ দ্যুতিতে। জীবনের ধূসর ক্যানভাসে আশার রং ভরে দিতে আসে শারদীয়া। সপরিবার মা দুর্গার আবাহনে মাতোয়ারা বঙ্গজীবন এই পাঁচদিন ভুলে থাকে সব দুঃখ। এ বারের পুজোটা যদিও একেবারে অন্য রকম। থিমের ঝুলি নিয়ে ভোলানোর বদলে এবার তিলোত্তমা মনে করিয়ে দিচ্ছে, সামনে কঠিন এক পরীক্ষা। এখনও বাকি অনেক অন্যায়ের বিচার। ‘তুমিও মানুষ আমিও মানুষ, তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়’, কবি শ্রীজাতর লেখা এই কবিতার লাইনটিই যেন মনে করিয়ে দিয়েছে কলকাতা তথা বাংলা। ৯ অগস্ট আরজি করে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসকের নৃশংস পরিণতি নাড়া দিয়ে গিয়েছে প্রত্যেককে। বাংলার সেরা উৎসবেও তার প্রতিফলন। ‘তোমার স্বর আমার স্বর, জাস্টিস ফর আরজি কর।‘ মাতৃশক্তি আরাধনার সঙ্গে সেই মাতৃশক্তিকেই রক্ষার ব্রত নিয়ে অভয়ার ন্যায় বিচারের কথা মনে করাচ্ছে একাধিক পুজো কমিটি। তাই কোথাও থিম মনে করাচ্ছে বিবেকের শিরদাঁড়া তো কোথাও আবার মণ্ডপের থিমই আরজি কর নির্যাতিতার ন্যায়বিচার।