ভিন রাজ্যের তীর্থযাত্রীরা ঠাঁই নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে – pilgrims from other states have taken shelter in relief camps at sundarbans


এই সময়, কাকদ্বীপ: ঘূর্ণিঝড় দানার পরোক্ষ প্রভাবে বুধবার সকাল থেকেই কালো মেঘে ঢেকেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা-সহ সুন্দরবনের উপকূলের আকাশ। সন্ধের পর থেকে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বাড়ে, বৃষ্টির বেগও বেড়ে যায়। আজ বৃহস্পতিবার থেকে লাল সর্তকতা জারি করা হয়েছে জেলায়।

এ দিন বিকেল আড়াইটের পর থেকে আগামী দু’দিন সুন্দরবনের সব জায়গাতেই ফেরি চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গঙ্গাসাগরে আসা ভিন রাজ্যের তীর্থযাত্রীদের কাকদ্বীপের লট নম্বর আট ফেরিঘাটে আটকে দেয় পুলিশ।

গঙ্গাসাগরে থাকা সমস্ত তীর্থযাত্রীদের এ দিন দুপুরের মধ্যে প্রশাসনিক নিরাপত্তায় সাগরের কচুবেড়িয়া ঘাট থেকে ভেসেলে করে মুড়িগঙ্গা নদী পের করে কাকদ্বীপে পৌঁছে দেওয়া হয়। নতুন করে এ দিন দুপুর থেকে আর তীর্থযাত্রীদের গঙ্গাসাগরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তীর্থযাত্রীদের আশেপাশের সাইক্লোন সেন্টারে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ।

ভেসেল বন্ধ হওয়ায় আটকে পড়েন সাগরের বেশ কিছু বাসিন্দাও। কাকদ্বীপের এসডিপিও প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হারউড পয়েন্ট উপকূল থানার ওসি বাপি রায়ের উদ্যোগে তাদের বাড়ি ফেরাতে স্পেশাল ভেসেলের বন্দোবস্ত করা হয়। জেলার সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি ও প্রাথমিক স্কুল ও কলেজও বন্ধ রাখার ঘোষণা হয়েছে।

জেলায় মোট তিনটি এনডিআরএফের বাহিনী গঙ্গাসাগর, পাথরপ্রতিমা এবং বকখালির উপকূলে মোতায়েন থাকবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা শাসক সুমিত গুপ্তা বলেন, ‘ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার মানুষকে সাড়ে চারশোর বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়েছে।’ এ দিন জেলার সমস্ত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কন্ট্রোলরুমে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা থাকবেন। বিদ্যুৎ বিপর্যয় হলে জেনারেটর ব্যাকআপ থাকবে।

বুধবার বিকেল থেকে জেলা প্রশাসন সুন্দরবনের বিছিন্ন দ্বীপ থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর কাজ শুরু হয়। এদিন বিকেলে মৌসুনি এবং ঘোড়ামারা দ্বীপের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নামখানার লালগঞ্জ এলাকায় শুকনো মাছের খটিতে কাজ করতে এসে আটকে পড়া ২৫ জন মৎস্যজীবী শ্রমিককে উদ্ধার করেছে সুন্দরবন পুলিশ জেলা।

দানার প্রভাব পড়ার আগেই সাগরের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ৬৫ জন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে আনা হয় সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে। পাথরপ্রতিমা-সহ সমস্ত দ্বীপাঞ্চলে গর্ভবতী মহিলাদেরকে ব্লক হাসপাতালগুলোতে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। এ দিন দুপুরে দুর্যোগের আগে গঙ্গাসাগরের মহিষমারির পাশাপাশি আশেপাশের এলাকায় বেহাল নদী ও সমুদ্র বাঁধ পরিদর্শনে যান সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা।

গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির মন্দিরের সামনের বঙ্গোপসাগরের উপকূলে থাকা সমস্ত অস্থায়ী দোকান সরানোর নির্দেশ দেয় প্রশাসন। বঙ্কিম বলেন, ‘বেহাল বাঁধগুলোতে সেচ দপ্তর মেরামতের কাজ করছিল। দুর্যোগ সরলেই পুরোদমে ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখে দ্রুত বাঁধ মেরামতের কাজ চালানো হবে।’ সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও নলাভাট বলেন, ‘নদীপথে এবং স্থলে লাগাতার মাইকে প্রচার করা হচ্ছে। উপকূল থেকে মানুষজনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার কাজ চালানো হচ্ছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *