Kolkata Derby: ‘কল্যাণীর স্নিগ্ধ মাটি, লাল-হলুদের শক্ত ঘাঁটি’, ডার্বিতে শিল্পাঞ্চলে জ্বলল মশাল…


শুভপম সাহা:  ‘কল্যাণীর স্নিগ্ধ মাটি,  লাল হলুদের শক্ত ঘাঁটি’, কল্যাণী স্টেশন থেকে নেমে স্টেডিয়াম আসার পথে এমন বেশ কয়েকটি হোর্ডিংয়ে চোখ আটকেছিল! প্রশ্ন জেগেছিল, তাহলে ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা কি আগেই জানতেন যে, শনিবার সন্ধ্যায়, ডার্বির শেষ হাসি তাঁরাই হাসবেন! হোর্ডিংয়ের সাত শব্দেই লেখা হল ম্যাচের স্কোরলাইন! ইস্টবেঙ্গল ৩-২ গোলে ঘটি-বাঙালের চিরাচরিত আবেগের মহাযুদ্ধ|

ডার্বির আগে

এদিন মাঠে নামার আগে ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পাওয়া মোহনবাগান আত্মবিশ্বাসে ফুটছিল। সেখানে ইষ্টবেঙ্গল মাত্র ৪ ম্যাচে মাত্র ৫ পয়েন্ট! তবে প্রেস্টিজ ফাইটে পরিসংখ্যান ওই খাতায়-কলমেই থেকে যায়| মহারণে প্রভাত লাকরা, এডমন্ড লালরিনডিকা, ডেভিড লালহানসাঙ্গা, মার্তন্ড রায়না, দেবজিৎ মজুমদারের মতো সিনিয়র ফুটবলারদের নিয়েই লাল-হলুদের প্রথম একাদশ সাজিয়েছিলেন বিনো জর্জ| অন্যদিকে ডেগি কার্ডোজা সবুজ-মেরুন স্কোয়াডে প্রথম এগারোয় রেখেছিলেন সুহেল ভাট, কিয়ান নাসিরি ও দীপেন্দু বিশ্বাসের মতো সিনিয়রদের| 
প্রথমার্ধ
লাল-হলুদের খেলা শুরু থেকেই ছিল সবুজ-মেরুনের চেয়ে ছিল বেশি গোছানো| তার ফলস্বরূপ খেলার ৯ মিনিটেই লাল-হলুদ জনতাকে সেলিব্রেশনে মাতিয়ে দেন জেসিন টিকে| এডমন্ড-সায়ন বন্দ্যেপাধ্যায় ও জেসিন নিজেদের মধ্যে স্কোয়ার পাস খেলেন, ফিনিশ করেন জেসিন|

দ্বিতীয়ার্ধ

বিরতির কিছু আগেই পরপর জোড়া ঘটনায় মাঠ রীতিমতো উত্তপ্ত  হয়ে গিয়েছিল| দীপেন্দু এবং ডেভিড বল ট্যাকেলে করতে গিয়ে পড়ে যান, এরপর সবুজ-মেরুনের বঙ্গ ডিফেন্ডার ইচ্ছাকৃত ভাবে ডেভিডের মাথায় বুট চালিয়েও পার পেয়ে যান বক্সের মধ্যে! দীপেন্দুর অবধারিত কার্ড যেমন ছিল, তেমনই ইস্টবেঙ্গল প্রাপ্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়| এই ঘটনায় দীপেন্দুর সঙ্গে প্রভাত লাকরাও উত্তপ্ত বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন| তবে দুই দলের ফুটবলাররাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন খেলার স্পিরিট দেখিয়ে| রেফারি ছ’মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেছিলেন প্ৰথমার্ধে| আর ৫১ মিনিটে স্কোরলাইন ২-০ করে ফেলেন সায়ন| ২০ মিনিটে জেসিন চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ায় নেমেছিলেন মার্ক জোথানপুইয়া|  মার্ক জো বাঁ দিকে পাস বাড়িয়ে ছিলেন এডমন্ডকে, তিনি বল বাড়ান সায়নকে| সায়ন সোলো রানে আগুয়ান গোলরক্ষককে ইনসাইডে  কাটিয়ে কল্যাণী মাতিয়ে দেন|  

বিরতির পরে তেড়েফুঁড়ে নামে মোহনবাগান ৬৭ মিনিটে সমতা ফিরিয়ে আনে| ৫৩ মিনিটে কিয়ানের কর্নার থেকে দীপেন্দু বল হেডে নামিয়ে দেন লিওয়ানকে| বাগানের ডিফেন্ডার জোরাল শটে গোল করতে কোনও ভুল করেনি| এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতে মোহনবাগানের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন কিয়ান| ৬৭ মিনিটে লিওয়ানের সেন্টার থেকে জামশিদ   নাসিরির পুত্র মোহনবাগান সমর্থকদের মাতিয়ে দেন| রুদ্ধশ্বাস ডার্বিতে যেন গোলের উৎসব চলছে তখন| আর ঠিক ৬৯ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন ডেভিড| অমন সিকের সেন্টার থেকে গোল করতে কোনও ভুল করেননি মিজোরামের ফরোয়ার্ড| তবে ৮৩ মিনিটে এই ডেভিডই নাসিবের সাজানো পাস থেকে ওপেন নেট মিস করলেন! প্র্যাকটিসেও এমন গোল কেউ হাতছাড়া করে না| দ্বিতীয়ার্ধে রেফারি নির্ধারিত সময়ের পর সাত মিনিট যোগ করেছিলেন, কিন্তু কোনও দলই স্কোরলাইনে প্রভাব ফেলতে পারেনি…উল্টে অমন সিকে জোড়া হলুদ কার্ডের সুবাদে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন! আর এদিন আলাদা নজর কাড়লেন কল্যাণীর ঘরের ছেলে প্রভাত লাকরা| 

আরও পড়ুন-ভয়ংকর! ভারতীয় ক্রিকেটার, IPL চ্যাম্পিয়ন RCB-র দামি বাঁ-হাতি বোলারের বিরুদ্ধে ফের ধ*র্ষ*ণের অভিযোগ…

আরও পড়ুন-ওয়াংখেড়েতে জাদুকরের পা! ডিসেম্বরেই মেসি বনাম মাহি…

ইতিহাস

মরসুমের প্রথম ‘কলকাতা ডার্বি’ শহর থেকে শিল্পাঞ্চলে (কল্যাণীতে) চলে যাওয়ায়, কলকাতার বহু ফুটবল সমর্থকদেরই বিস্তর ক্ষোভ ছিল! কোথায় যুবভারতীর আসন 
 সংখ্যা ৬৫ হাজার! আর কোথায় ১৫ হাজারি কল্যাণী! প্রথমে ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল ১৯ জুলাই। পুলিশি আপত্তিতে সেই ম্যাচ পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত হল ২৬ জুলাই।
তবে আইএফএ প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরেও ‘সফল’ ভাবে বড় ম্যাচ আয়োজন করল| দুর্দান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে মাঠ, মেডিক্যাল ক্যাম্প এবং পর্যাপ্ত পানীয় জল! এমনকী কল্যাণীতে বৃষ্টি ভোগাবে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছিল, তবে বরুণ দেব শান্ত থাকায় আবহাওয়াও ছিল ম্যাচের প্রতিকূলে! কল্যাণীতে এই প্রথমবার হল ডার্বি| আর ইতিহাস লিখে দিল ইস্টবেঙ্গল…

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *