জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ডুরান্ড ডার্বিতে জোড়া গোলের নায়ক ছিলেন তিনি। আর ডুরান্ড শেষ হতেই অতীত হয়ে গেলেন গ্রিক স্ট্রাইকার দিমিত্রিয়স দিয়ামান্টাকোস (Dimitrios Diamantakos)। ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) এবং দিমির মৌখিক সম্মতিতেই বিচ্ছেদ হয়ে গেল। লেসলি ক্লডিয়াস সরণির শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব সোমবার বিকালে, সোশাল মিডিয়ায় দিমিকে ‘গুড লাক’ জানিয়েই তাঁকে প্রাক্তন করে দিল। বলা যেতে পারে ভক্তদের ‘দিমি-গড’ নিয়ে মোহমুক্তি ঘটল! দিমির যে বিদায় আসন্ন, তেমনটা শোনাই যাচ্ছিল। শেষে জল্পনাই সত্যি প্রমাণিত হল!
দিমির আগমন
গতবছর জুলাইয়ের দিমির আগমন। কার্লেস কুয়াদ্রাত তখন ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ। সোনার বুট পায়ে মশাল জ্বালানোর লক্ষ্যে ইস্টবেঙ্গলে এসেছিলেন গ্রিক গোলমেশিন। কেরালা ব্লাস্টার্সের জার্সিতে গোলের পর গোল করেছিলেন তার আগের মরসুমে। ১৭ ম্যাচে ১৩ গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট করে হন লিগের সর্বাধিক গোলদাতা। পেয়েছিলেন সোনার বুট। কেরালা থেকে দুই বছরের চুক্তিতে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গলে।
আরও পড়ুন: ২৯৭% বাড়ল পুরস্কারমূল্য! মাথা ঘোরানো টাকার ঘোষণা জয়ের, বিশ্বকাপ জিতলে মিলবে কত?
কেরালায় দুরন্ত দিমি!
৩২ বছরের ৬ ফুটের স্ট্রাইকার ভারতীয় ফুটবলে পা রেখেছিলেন ২০২২ সালে। তার আগে ২০১২ সাল থেকে তিনি গ্রিস, জার্মানি, ক্রোয়েশিয়া ও ইজরায়েলের একাধিক ক্লাবে খেলেছেন। কেরালায় দুই মরসুম কাটিয়ে ৪৪ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ২৮ গোল। ছিল ৭টি অ্যাসিস্ট। ২০২৩ মরসুমে ভারতের ঘরোয়া ফুটবলে তিনি যুগ্মভাবে সর্বাধিক গোলশিকারিও হয়েছিলেন। ২০ ম্য়াচে ছিল ২০ গোল! আইএসএলে ১৩ গোল ও ৩ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি তাঁর কলিঙ্গ সুপার কাপে ছিল ৩ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট। ২০২২-২৩ আইএসএলে টানা পাঁচ ম্য়াচে গোল করে রেকর্ডও করেছিলেন।
ইস্টবেঙ্গলে নিস্পৃহ দিমি!
তবে কেরালার দিমি কলকাতায় এসে যেন প্রথম থেকেই নিজের ছায়া হয়েই বিচরণ করেছিলেন। সেই আগুনে দিমি যেন ইস্টবেঙ্গলে হারিয়েই গিয়েছিল। লাল-হলুদ জার্সিতে সেভাবে সাফল্যের মুখও দেখেননি তিনি। কেরালার জার্সিতে দুই আইএসএল মরসুমে ডাবল ডিজিট গোল করা দিমির লাল-হলুদ জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মোট গোল মাত্র ১২! অ্যাসিস্ট ৪।
আরও পড়ুন: এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে ইস্টবেঙ্গল!
ডুরান্ড সেমিই শেষ!
ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ওয়েবসাইট বলছে যে, দিমি গত মরসুমে মোট ৯টি গোল করেছেন; এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ৪টি, আইএসএলে ৪টি এবং ডুরান্ড কাপে ১টি। ভক্তদের দিমি-গড’ কিন্তু গোলের সহজ সুযোগ নষ্টের প্রবণতার কারণেই বহু ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে বারবার সমালোচিত হয়েছেন। ডুরান্ড সেমিফাইনালে ডায়মন্ড হারবারের বিরুদ্ধেই দিমি শেষবার ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে নেমেছিলেন। সেটি ছিল তাঁর ৩২ নম্বর ম্য়াচ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
