জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শুক্রবার ৭০ বছর পূর্ণ করলেন অভিনেত্রী রেখা (Rekha)। ১৯৭৬ সাল নাগাদ তাঁর জীবনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে। সেই সময় থেকেই রেখা নিজেকে নতুন করে গড়তে শুরু করেন। নিজের রূপ, অভিনয় এবং পৃথিবীর কাছে নিজের পরিচিতি—সবকিছুই বদলে ফেলার এক নতুন যাত্রা শুরু করেন তিনি। তাঁর এই পরিবর্তনের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব ছিল অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা, এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে ইয়াসির উসমানের লেখা ‘রেখা: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ বইয়ে।
আরও পড়ুন- Pawan Singh’s Wife: ‘জোর করে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়াত, না খেলেই মারধর’, ভয়ংকর অভিযোগ অভিনেতার স্ত্রীর…
একসময় ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাহীন, বেপরোয়া মেয়েটি নিজেকে সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলেন। তিনি নিজের ভাষা দক্ষতা—হিন্দি, ইংরেজি, এবং উর্দু—নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেন। শুধু চেহারা নয়, তিনি চেয়েছিলেন তাঁর একটি নতুন পরিচিতি গড়ে উঠুক। এই রূপান্তর একসময় বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়—এক সাধারণ চেহারার মেয়ে থেকে এক গ্ল্যামারাস ডিভায় পরিণত হওয়া। রেখা কঠোর ডায়েট, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং যোগাভ্যাস শুরু করেন, যা ১৯৭০-এর দশকে বলিউডের অভিনেতাদের মধ্যে প্রায় শোনা যেত না। বহুলাংশে তিনি হয়ে ওঠেন ট্রেন্ডসেটার। এমনকি মেকআপকেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব নেন। সেই সময়ের ভারতীয় সিনেমায় ব্যবহৃত অতিরিক্ত ও নাটকীয় মেকআপ কৌশলে বিরক্ত হয়ে তিনি নাকি লন্ডনে ‘দ্য মেক-আপ স্কুল’-এ গিয়ে পেশাদারভাবে এই শিল্পটি শেখেন।
এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী পরিবর্তনের জন্য রেখা বারবার অমিতাভ বচ্চনকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন। রেডিফকে দেওয়া একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে ওর প্রভাবই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রভাব, ঠিক যেমন আমার কৈশোরে ছিল আমার মা। অমিতাভের কাছ থেকে আমি শিখেছি সময়ানুবর্তিতা, নীরবতা, শৃঙ্খলা, একাগ্রতা এবং পেশাদারিত্ব। তিনি আমার আচরণ ও জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করেছেন। আমি নিরামিষাশী হয়ে উঠলাম এবং বিপজ্জনকভাবে জীবনযাপন করা বন্ধ করলাম। সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর বিষয় হলো, তাঁর সাথে শুধু পরিবর্তন নয়, পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটিও ছিল সুন্দর।”
তবে এই পরিবর্তন নিয়ে বলিউডের অন্দরে কানাঘুষো ছিল। বর্ষীয়ান সাংবাদিক পূজা সামন্তএক সাক্ষাৎকারে জানান, “অমিতাভের মনে জায়গা করে নেওয়ার জন্যই রেখা নিরামিষাশী হয়ে উঠেছিলেন।” সামন্ত আরও মনে করেন, “দুজনের মধ্যে এক ধরনের আকর্ষণ তৈরি হলেও, সেটা প্রেম ছিল না, কারণ তিনি (অমিতাভ) আগেই বিবাহিত ছিলেন।” এক ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন যে ঋষি কাপুর ও নীতু সিংয়ের বিয়েতে রেখার সিঁদুর পরে উপস্থিত হওয়া। তাঁর মতে, এটি “নবদম্পতির বিশেষ দিন থেকে অন্য়দের মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছিলেন রেখা।” বিশিষ্ট সিনে ক্রিটিক হানিফ জাভেরি জয়া ও রেখাকে নিয়ে একটি ঘটনার কথা বলেছিলেন। এক পডকাস্টে তিনি জানান, অমিতাভ-রেখার কথিত সম্পর্কের গুঞ্জন যখন তুঙ্গে, তখন জয়া তাঁর স্বামী বাইরে শুটিংয়ে থাকাকালীন রেখাকে দুপুরের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
পেশাগত জীবনে অমিতাভ বচ্চন ও রেখা একত্রে ‘দো আনজানে’, ‘মিস্টার নটবরলাল’, ‘সুহাগ’, ‘মুকাদ্দার কা সিকান্দার’ এবং ‘সিলসিলা’-এর মতো একাধিক হিট ছবিতে অভিনয় করেছেন। রেখা ১৯৯০ সালে ব্যবসায়ী মুকেশ আগরওয়ালের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও, কয়েক মাস পরেই আগরওয়ালের আত্মহত্যার মাধ্যমে সেই দাম্পত্যের মর্মান্তিক সমাপ্তি ঘটে। অন্যদিকে, অমিতাভ বচ্চন ১৯৭৩ সাল থেকে জয়া বচ্চনের সঙ্গে বিবাহিত, এবং তাঁদের দুই সন্তান—অভিষেক ও শ্বেতা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
