সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, রূপার দামে এক নজিরবিহীন ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)-এ রূপার দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি কেজি ২,৫০,০০০ টাকার মাইলফলক ছাড়িয়ে গিয়েছে।
বাজারের বর্তমান অবস্থা
রেকর্ড দাম: এমসিএক্স-এ রূপার মার্চ ফিউচার ৫.৯৯% বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ২,৫৪,১৭৪ টাকায় পৌঁছায়। সকাল ৯:৪০ মিনিটের দিকে এটি ২,৫১,৭৪৬ টাকায় লেনদেন হচ্ছিল।
আন্তর্জাতিক বাজার: বিশ্ববাজারে রূপার দাম আজ সকালে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৮০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে মুনাফা তুলে নেওয়ার (Profit-taking) হিড়িকে এটি কিছুটা কমে ৭৮.১২ ডলারে দাঁড়ায়।
সেরা সম্পদ: এ বছর রূপার দাম ১৮১% বেড়েছে। সোনাকে বহুদূরে ফেলে দিয়ে এ বছর রূপা ‘সেরা পারফর্মিং অ্যাসেট’ বা সেরা লাভজনক সম্পদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
এনভিডিয়া-কে ছাড়িয়ে রূপা: রূপার মোট বাজারমূল্য (Market Cap) এখন ৪.৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের সবচেয়ে দামী কোম্পানি এনভিডিয়া-কেও (৪.৬৩ ট্রিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে।
এ বছর রূপার দাম বাড়ার মূল কারণগুলো কী?
১. সরবরাহে ঘাটতি ও শিল্প চাহিদা: গত সাত বছর ধরে রূপার উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে। বিপরীতে সৌরশক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) এবং ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে রূপার ব্যবহার ২০২৫ সালে ব্যাপক বেড়েছে।
২. সুদ হ্রাসের প্রভাব: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোয় এবং ২০২৬ সালেও কমানোর সম্ভাবনা থাকায় বিনিয়োগকারীরা রূপা ও সোনার মতো সম্পদের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন।
৩. নিরাপদ বিনিয়োগ (Safe Haven): ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক নীতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা রূপাকে নিরাপদ মনে করছেন।
৪. চিনের কড়াকড়ি: রূপা রপ্তানিতে চীনের নতুন বিধিনিষেধ বিশ্ববাজারে রূপার সরবরাহ আরও কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইলন মাস্কের সতর্কবার্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত
রূপার এই আকাশছোঁয়া দাম দেখে টেসলা এবং স্পেস-এক্স প্রধান ইলন মাস্ক একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, বহু শিল্প প্রক্রিয়ায় রূপা একটি অপরিহার্য উপাদান; তাই এর দাম এভাবে বাড়তে থাকলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ: অ্যাঞ্জেল ওয়ান (Angel One)-এর বিশেষজ্ঞ প্রথমেশ মাল্য জানান, আমেরিকার অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, আমেরিকা-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা এবং রূপার সরবরাহ-চাহিদার বিশাল পার্থক্যের কারণে রূপার এই তেজি ভাব আরও কিছুদিন বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সতর্কবার্তা হিসেবে মাল্য (Mallya) জানিয়েছেন যে, বাজারের এই অস্থিরতা বড় ধরনের দরপতনের (Correction) কারণ হতে পারে, যেমনটি রূপার বাজারের আগের ক্র্যাশগুলোর সময় দেখা গিয়েছিল।
বাজারের এই অস্থিরতার কথা মাথায় রেখে মাল্য ধারণা করছেন যে, পরিস্থিতি খুব বেশি প্রতিকূল না হলেও (Base case scenario) রূপার দাম প্রতি কেজি ১,৫০,০০০ টাকায় নেমে আসতে পারে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে রূপার দাম বেড়ে ২,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বোনাঞ্জা (Bonanza)-এর সিনিয়র কমোডিটি রিসার্চ অ্যানালিস্ট নৃপেন্দ্র যাদব মনে করেন, প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, শিথিল নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির এই পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের এমনভাবে পোর্টফোলিও সাজানো উচিত যা স্থিতিস্থাপক হয়। তিনি বিনিয়োগকারীদের তাদের মোট পোর্টফোলিও’র ১৫%-২৫% মূল্যবান ধাতুর (সোনা ও রূপা) জন্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, যার মধ্যে ৪০% অংশ রূপায় রাখা উচিত।
সতর্কবার্তা (Disclaimer): এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি। এখানে ব্যক্ত করা মতামত ও পরামর্শগুলো ব্যক্তিগত বিশ্লেষক বা ব্রোকিং ফার্মের, সংবাদমাধ্যম ‘মিন্ট’-এর নয়। বাজারের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে, তাই যেকোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমরা বিনিয়োগকারীদের সার্টিফাইড বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করার পরামর্শ দিচ্ছি।
আরও পড়ুন: Cigarette Price Hike: এবার ধূমপানটা ছেড়ে দিন! ৬ টাকার সিগারেট এবার ২৪ টাকা, ওকে? নির্মলার নতুন বিল…
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
