West Bengal Assembly Election 2026: ‘দেশবিরোধী রাজনীতি বাংলায়…’ পিছিয়ে যাবে বিধানসভা ভোট? বড় কথা বলে দিলেন দিলীপ ঘোষ…


ই. গোপী: রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই ইডি অধিকর্তার আগমন-সহ একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ দিলীপ ঘোষের। বাদ গেল না হিরণের বিয়েও! আইপ্যাক সংঘাত ও এসআইআর বিতর্কের আবহের মধ্যেই রাজ্যে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অধিকর্তা রাহুল নবীন। কলকাতার ইডি অফিসের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যপালের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এই সফরকে কেন্দ্র করেই রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 

Add Zee News as a Preferred Source

এদিন ইডি অধিকর্তার আগমন প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “এটা কোনও নতুন ঘটনা নয়। পশ্চিমবাংলায় দুর্নীতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। একাধিক তদন্ত চলছে। সেগুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতেই কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকদের আসা-যাওয়া স্বাভাবিক। বাংলার মানুষ চায় রাজ্য দুর্নীতিমুক্ত হোক এবং এই তদন্তগুলি দ্রুত শেষ হোক।” ওদিকে ডিজি নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ক্যাট। আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে সেই প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গেও রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, “এই সরকার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ। সময়মতো কাজ না হওয়ায় বার বার আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। আদালতে গিয়ে এই সরকারকে কানমোলা খেতে হয়। জটিলতা কাটাতে না পারলে উন্নয়ন হবে কী করে?” 

ভোট পিছনোর আশঙ্কা!

এর পাশাপাশি এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তৎপর হয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২৪ জানুয়ারির মধ্যে তথ্য গরমিলের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেও বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলে জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, “রাজ্য সরকার চায় না এসআইআর ঠিকঠাক হোক। কারণ তাতে ভুয়ো ভোটারদের নাম কাটা যাবে। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশনকে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে। আমরা চাই এসআইআর দ্রুত সম্পূর্ণ হোক, না হলে ভোট পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” 

অন্যদিকে আবারও শুনানিকেন্দ্রে হুমকি ও অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। রঘুনাথগঞ্জে শুনানিকেন্দ্রে BLO-কে কার্যত হুমকি দেওয়ার ঘটনায় বিতর্কে জড়িয়েছেন রাজ্যের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল এসআইআর আটকাতে না পেরে এখন গুন্ডামিতে নেমেছে। BLO-দের ভয় দেখানো হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে, এমনকি বাড়ি ঘেরাও করে ভুয়ো নাম রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে।” পুরুলিয়ায় গিয়ে বিজেপিকে ‘আলসার-ক্যানসার’ বলে কটাক্ষ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকেও নিশানা করেন তিনি। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ ঘোষ বলেন, “পশ্চিমবাংলায় যে রাজনীতি চলছে তা দেশবিরোধী। দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন, সেনা, আদালত সবকিছুকে শত্রু বানিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। এর ফলে সারা দেশের মানুষ পশ্চিমবাংলাকে অন্য চোখে দেখতে শুরু করেছে। আমরা পশ্চিমবাংলাবাসী হিসেবে লজ্জিত।” 

শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় হামলা সংক্রান্ত ঘটনায় আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ নিয়েও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। CAPF ও রাজ্যের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “তৃণমূলের হিংসাত্মক রাজনীতির শিকার আমরা সবাই। আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা তার দিকেই তাকিয়ে আছি।” এদিন প্রসঙ্গক্রমে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিয়ে নিয়েও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “যাঁরা সেলিব্রিটি বা বিশিষ্ট ব্যক্তি, তাঁদের বিয়ে করলে বা সর্দি হলেও খবর হয়। আলোচনা চলুক।” 

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত টানাপোড়েন— সব মিলিয়ে আগামী দিনে, ভোট যত এগিয়ে আসবে, বাংলার রাজনীতিতেউত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন, West Bengal Assembly Election 2026: ‘বড়সড় ভাঙন’ শাসক তৃণমূলে! ব্যাপক ‘শক্তিক্ষয়’ প্রতিপক্ষ বিজেপিরও! জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় রদবদল…

আরও পড়ুন, Snigdhajit Bhowmik: ফ্যানদের সঙ্গে হাত মেলাতেই… বলা হল… সরকারি মেলায় ‘নোংরা হেনস্থা’ স্নিগ্ধজিৎকে! উগরে দিলেন ক্ষোভ…

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *