জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলাদেশের প্রেমে অন্ধ? আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে বয়কট করে এবার আইসিসি রোষে পড়তে পারে পাকিস্তান। এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানভাবে আইসিসিকে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানায়নি পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড। তবে বিষয়টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ভালোভাবে নিচ্ছে না বলে খবর। সেক্ষেত্রে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে সলমন আলি আঘাদের।
কী শাস্তি হতে পারে পাকিস্তানের?
—
আইসিসির নিয়মে কোনও দল ম্যাচ বয়কট করে, সেক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট দলকে ২০ ওভার খেলেছে। ফলে নেট রানে ওই ওভারগুলির গড় রানও গণনা করা হয়। ফলে পাকিস্তানে নেট রানরেট অনেকটাই কমে যাবে। কিন্তু ভারতের রানরেটে কোনও প্রভাব পড়বে না। শুধু তাই নয়, ভারতের বিরুদ্ধে বয়কটে সিদ্ধান্তই যদি শেষপর্যন্ত বহাল রাখে, সেক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে তাদের আয়েও প্রভাব পড়তে পারে।
ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সেই ম্যাচ থেকে কোনও পয়েন্টও পাবে না। ২ পয়েন্ট দেওয়া হবে ভারতকেই।
বিসিসিআই ও আইসিসি-র সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছে ভারত। হাইব্রিড মডেল পাকিস্তান তাদের সব খেলছে শ্রীলঙ্কায়। সেই মতো সূচিও হয়েছে। এখন ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে চুক্তিভঙ্গ হবে। সেক্ষেত্রে আর হাইব্রিড মডেলে কোনও টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাবে না পাকিস্তান। যেখানে খেলা হবে, সেখানেই খেলতে হবে। পাকিস্তানেও লভ্য়াংশও কেটে নিতে পারে আইসিসি।
বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত-পাাকিস্তান ম্যাচের জনপ্রিয়তাই সবচেয়ে বেশি। এতটাই যে, ২০১২ সাল থেকে প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে দুই দলকে একই গ্রুপে রাখে আইসিসি। এমনকী, দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে অবনতিতে এই নিয়মে অন্যথা হয়নি। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান যদি বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড়, তাহলে ২০১০ সালের পর এই প্রথম পুরুষদের আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হবে না। সেক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতি হবে আইসিসিরও
এর আগেও, বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান। আইসিসি সতর্ক করার পর অবশ্য নিজেদের অবস্থান পাল্টায় তারা। প্রশ্ন উঠছে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট কি বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে? বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে সই করিয়েও কেকেআর রিলিজ করে দেয় সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে। এর পর থেকেই বাংলাদেশের ক্ষোভের পাহাড় জমতে শুরু করে। সেই আইপিল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেই থামেনি ইউনূসের সরকার, নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় বাংলাদেশ, তাদের ম্যাচগুলি ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বারবার আইসিসি-কে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। এরপর ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় এবং স্কটল্যান্ডকে তাদের বিকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
