মৌমিতা চক্রবর্তী: সিপিআইএম রাজ্য কমিটি ও তথা দল থেকে পদত্যাগের পরই প্রতীক উরকে নিয়ে চর্চা চলছেই। একদিকে দলত্যাগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতীক উরকে নিয়ে জল্পনা ছড়ায় তিনি তৃণমূলে যোগদান করতে চলেছেন! এমনকি তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হতে পারেন সেই খবরও রটে! আর তারপরই সামনে আসে প্রতীক উরকে বিমান বসুর ফোনের কথা। যদিও সেই কথোপকথন ফাঁস হয়ে যাওয়ার ক্ষুব্ধ প্রতীক উর। তাঁর অভিযোগের আঙুল দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে। এমনকি তিনি এও তোপ দেগেছেন যে সিপিআইএম-এর বর্তমান রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম নির্দিষ্ট কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে চলছেন। তিনি হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠকের সময় পান, কিন্তু তাঁকে ফোন করার সময় পান না বলে! ওদিকে এরমধ্যেই প্রতীক উর প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন শতরূপ। বিস্ফোরক মন্তব্য তাঁর।
প্রতীক উরকে নিয়ে বিস্ফোরক শতরূপ!
শতরূপের বক্তব্য,” প্রতীক উর আমাদের সবার কাছের, পেয়ারের লোক। কিন্তু ওর-ও মনে রাখা উচিত ওকে কারা খুন করতে চেয়েছিল। আমাকে নিয়ে যারা নিন্দা করার করুক, জিন্দা থাকলে নিন্দা হবেই। বিমান বসু তো আর লস্করের লোক নন, ওনার সঙ্গে কী কথা হয়েছে, তা কেউ জানলে সমস্যা কোথায়?”
প্রতীক উরের ইস্তফা
গত সোমবার ১৬ ফেব্রয়ারি সকালে আচমকা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো সামনে আসে সিপিআইএম পার্টি থেকে প্রতীক উর রহমানের ইস্তফার খবর! রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে যায়। এমনকি তাঁর পদত্যাগপত্র ভাইরাল পর্যন্ত হয়ে যায়। যেখানে তিনি দলের কর্মপদ্ধতির সঙ্গে ‘খাপ খাওয়াতে পারছি না’ বলে লিখেছেন। দলের কর্মপদ্ধতির সঙ্গে ‘খাপ খাওয়াতে’ না পারার কারণেই তাঁর এই ইস্তফা বলে জানিয়েছেন। ইস্তফা পত্রে প্রতীক উর লিখেছিলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। এমতাবস্থায় আমি পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
দলের একাংশের প্রতি অভিযোগ
প্রতীক উরের অভিযোগের নিশানায় দলেরই একাংশ। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই দলের এক তরুণ নেতার সঙ্গে প্রতীক উরের মতানৈক্যের খবর সামনে এসেছিল। সেইসময় তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘নীতি-নৈতিকতা ছাড়া, আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।’ আর তারপরই প্রতীক উরের দল থেকে ইস্তফা।
তৃণমূলে যোগদান জল্পনা
ইস্তফার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই প্রতীক উরকে নিয়ে সামনে আসে আরও বড় ব্রেকিং নিউজ! কাস্তে-হাতুড়ি ছেড়ে নাকি ঘাসফুলে যোগ দিতে চলেছেন প্রতীক উর রহমান! এমনই জল্পনা ছড়ায়। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস-ই একমাত্র হাতিয়ার! এমনটাই নাকি মনে করছেন প্রতীক উর! এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে যায় জোর জল্পনা। এমনকি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোনও একটি আসন থেকে প্রতীক উর ঘাসফুল প্রতীকে দাঁড়াতে পারেন, সেই খবরও রটে।
বিমান বসুর ফোন
এরপরই সামনে আসে আরও বড় আপডেট। জানা যায়, বিমান বসু ফোন করেছেন প্রতীক উরকে। আলিমুদ্দিনে আসতে বলেছেন তিনি। প্রতীক উর স্বীকারও করেন যে, বিমান বসুর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং তাঁকে রাজ্য দফতরেও ডাকা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আলিমুদ্দিনে যাননি তিনি। রাজ্য কমিটির বৈঠকেও তিনি যাবেন কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন। প্রতীক উরের ঘনিষ্ঠ মহল জানায়, দলের রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের কর্মপদ্ধতি নিয়ে বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সেই উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন।
গোপন তথ্য ফাঁসের বিস্ফোরক অভিযোগ প্রতীক উরের
এদিকে বিমান বসুর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কথোপকথন সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতীক উর দলের একটি বিশেষ অংশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দলের অত্যন্ত গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কথাবার্তা ফাঁস করে দেওয়া হচ্ছে। বিমান বসুর সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের ব্যক্তিগত তথ্যও ২০ মিনিটের মধ্যে ফাঁস করে দেওয়া হচ্ছে। তোপ দাগেন, দলের ভেতরেই কিছু ‘অপরাধী’ বসে আছে যারা তাঁর লড়াইকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে।
বিজেপির থেকেও ডাক
প্রতীক উরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বিজেপির তরফেও। তবে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবন ও কর্মপন্থা নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি প্রতীক উর। বরং দুর্গম পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা টেনে রূপকে বুঝিয়েছেন নিজের মানসিক অবস্থা ও রাজনৈতিক অবস্থান। প্রতীক উর বলেন, ‘আমি এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে সামনে শুধু পাহাড়। পাহাড়ের চূড়ায় খাবার আছে নাকি মাটিতে ফুল আছে, আমি জানি না। সেই পাহাড় না ডিঙানো পর্যন্ত আমি পরবর্তী পথের হদিশ দিতে পাব না।’
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
