West Bengal
-Ritesh Ghosh
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ততই উত্তেজনা বাড়ছে। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় কার হাতে ক্ষমতা যাবে, তা জানতে উৎসুক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটার উভয়েই। সম্প্রতি আইএএনএস-ম্যাট্রিক্স পরিচালিত একটি জনমত সমীক্ষা জানিয়েছে যে, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সামান্য ব্যবধানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের চেয়ে এগিয়ে আছে। তবে, শাসক দল এগিয়ে থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান খুবই কম, যা রাজ্যজুড়ে এক তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আইএএনএস-ম্যাট্রিক্সের প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষার পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস এই ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ১৪০ থেকে ১৬০টি আসন জিততে পারে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ১৩০ থেকে ১৫০টি আসন পেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে, যা একটি কঠিন লড়াইয়ের ইঙ্গিত বহন করে। এছাড়াও, অন্যান্য দল এবং নির্দলীয় প্রার্থীরা প্রায় ৮ থেকে ১০টি আসনে জয়ী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আসন সংখ্যার পাশাপাশি, ভোট শতাংশের নিরীখেও দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে পার্থক্য খুবই সামান্য। তৃণমূল কংগ্রেস ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যেখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য ভোট ভাগ ৪১ থেকে ৪৩ শতাংশ। অন্যান্য দলগুলির ঝুলিতে প্রায় ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ ভোট যেতে পারে। মাত্র ২ শতাংশের এই সামান্য ব্যবধান আসন্ন নির্বাচনে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বিশেষভাবে তুলে ধরে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া দুটি দফায় সম্পন্ন হবে। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে, যার আওতায় আসবে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্র। দ্বিতীয় ও শেষ দফা ২৯ এপ্রিল বাকি ১৪২টি আসনে সম্পন্ন হবে।
ভোট গণনা শেষে ৪ মে এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। পূর্ববর্তী ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১৩টি আসন জিতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিল। বিজেপি তখন ৭৭টি আসন পেয়েছিল, যা ২০১৬ সালের তাদের মাত্র ৩টি আসনের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য উত্থান ছিল। এই নির্বাচনের ফলাফল শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না, বরং বৃহত্তর জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
