West Bengal
-Ritesh Ghosh
লোকসভায় ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল প্রয়োজনীয় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় পাস হতে পারেনি। ফলস্বরূপ, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরিকল্পিত ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বাস্তবায়নের উদ্যোগ আপাতত স্থগিত। এই ব্যর্থতার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।
বারুইপুরের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গতকাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পতন শুরু হয়েছে।” শুক্রবার প্রস্তাবিত আসনসংখ্যা বৃদ্ধির বিলটি লোকসভায় পাশ না হওয়ার পরই তিনি এই দাবি করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি ৯৮ সাল থেকে প্রকৃত মহিলা বিলের জন্য লড়ছেন। মমতা অভিযোগ করেন, বিলের উদ্দেশ্য ছিল দেশ ও বাংলাসহ রাজ্যগুলি ভাগ করা। তার মতে, ৫৪৩টি আসনে জেতার অনিশ্চয়তায় মোদী সরকার ৮৫০টি আসন করার “পিছনের খেলা” খেলছিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলেন, “আমরা দেশ, রাজ্য ভাগ করতে দেব না।” তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেস ২১ জন সাংসদকে সংসদে পাঠিয়েছিল এই চক্রান্ত রুখতে।
মহিলাদের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মোদী সরকার গতকাল হেরে গিয়েছে। মহিলা দেখাচ্ছেন আমায়? ৯৮ সাল থেকে লড়ছি।” তিনি বাংলার পঞ্চায়েত ও পুরসভায় ৫০ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় ৩৭% ও রাজ্যসভায় ৪৬% মহিলা সাংসদ থাকার উদাহরণ দেন।
মমতা মোদী সরকারকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনাদের কানমলা খাওয়া উচিত। আপনারা মেয়েদের সমর্থন করেন না।” মহিলা বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিলের সংযুক্তিকে তিনি “অত্যাচার” এবং “শেষ সীমার কার্যকলাপ” হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তৃণমূলনেত্রী এদিন দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তার কথায়, “মোদীজির পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। বাংলায় হবে দ্বিতীয় পতন। বাংলা দখল করে দিল্লি দখল করব।”
কেন্দ্রীয় সরকার বৃহস্পতিবার লোকসভায় ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করেছিল। বিলের পক্ষে ২৯৮টি ও বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়েছিল। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৩৫২টি ভোটের প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য ভোটদানকারী সাংসদদের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন অপরিহার্য, যা এই বিল পায়নি। ফলে ৫৪৩ থেকে ৮৫০-এ লোকসভার আসন বাড়ানোর কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা আপাতত বাতিল হয়ে গেল।
