West Bengal
-Ritesh Ghosh
নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়াকে কেন্দ্র করে আলোচনা অন্তহীন। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরে এক জনসভায় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেন, তাঁর এই ঝালমুড়ি ‘কিছু মানুষের জন্য বজ্রাঘাতের মতো ধাক্কা’ দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, কিন্তু ঝাঁঝ লেগেছে টিএমসি-র”। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল “অনুপ্রবেশকারীদের” আশ্রয় ও “মহাজঙ্গল রাজ” প্রতিষ্ঠা করছে। মানুষের ক্ষোভে কিছু রাজ্যে তৃণমূল একটিও আসন পাবে না বলেও তাঁর দাবি।

তিনি এখানকার মানুষকে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার বেছে নিতে আহ্বান জানান। জানা গিয়েছে, ৪ মে বিজেপির জয়ে মিষ্টি নয়, ঝালমুড়িও বিতরণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, “আপনাদের সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে বিজেপি-এনডিএ-র বিজয়ের পতাকা ওড়াতে হবে। ৪ মে বাংলায় বিজেপির বিজয় উৎসব পালিত হবে, মিষ্টিও বিতরণ হবে, আর ঝালমুড়িও দেওয়া হবে। ঝালমুড়িও কিছু মানুষকে বজ্রাঘাতের মতো ধাক্কা দিয়েছে। আমি ঝালমুড়ি খেয়েছি, কিন্তু ঝাঁঝ লেগেছে টিএমসি-র।”
প্রধানমন্ত্রী মতুয়া, নমশূদ্র ও উদ্বাস্তু পরিবারগুলোকে সিএএ-এর অধীনে নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর ঘোষণা: “আমি এই গ্যারান্টি দিতে এসেছি যে, মতুয়া সম্প্রদায়, নমশূদ্র সম্প্রদায় এবং উদ্বাস্তু পরিবারগুলোকে টিএমসি-কে ভয় পাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কেউ আপনাদের ক্ষতি করতে পারবে না। যারা আশ্রয় ও মর্যাদার সন্ধানে ভারতে এসেছেন, মোদী তাদের পাশে আছেন।”
প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও জানান, “সরকার গঠনের পর সিএএ-এর অধীনে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আপনারা সকল অধিকার ও সুবিধা পাবেন। এটাই মোদীর গ্যারান্টি।”
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে প্রচারকালে প্রধানমন্ত্রী মোদী রবিবার ঝালমুড়ি খান একটি দোকান থেকে। এই ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী রাস্তার খাবার বিক্রেতার কাছে ঝালমুড়ি চাইছেন। তিনি বিক্রেতাকে বলেন, “ভাই, আমাকে ঝালমুড়ি খাওয়ান”। মোদী দোকানদারকে অভিবাদন জানিয়ে দাম জিজ্ঞাসা করেন। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ভিডিওটি শেয়ার করে তিনি ক্যাপশন দেন, “ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি ব্রেক!”
তবে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি বিরতিকে “চিত্রনাট্য সাজানো” বলে কটাক্ষ করেন। এক জনসভায় তিনি বলেন, “সেখানে ক্যামেরা কীভাবে উপস্থিত ছিল? পুরো ঘটনাটাই সাজানো ছিল।” তার প্রেক্ষিতেই ফের এদিন তৃণমূলকে খোঁচা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
