Kolkata
-Ritesh Ghosh
শনিবার শেষ দফার প্রচারে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা। এদিন চক্রবেড়িয়া রোডে জনসভা চলাকালীন বিজেপির মাইকিংয়ের জেরে মাঝপথেই ভাষণ থামিয়ে মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনই অভিযোগ দলের তরফে।
এদিনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সূচনা ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে। সেখানে ভোটের আগে শেষ শনিবার প্রচারে নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলনেত্রীর রোড শো এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর জনসংযোগ চলাকালীন দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা মুখোমুখি হয়ে পড়েন। মুহূর্তেই শুরু হয় ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে যুদ্ধ। উত্তেজনা বাড়লে শুভেন্দু তাঁর জনসংযোগ থামিয়ে দেন।

ভবানীপুরের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই পাল্টা মাঠে নামে বিজেপি। অভিযোগ, তৃণমূলের জনসভা চলাকালীন পরিকল্পিতভাবে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারা। এর ফলস্বরূপ, তৃণমূল সুপ্রিমোকে মাঝপথেই ভাষণ বন্ধ করে মঞ্চ ছাড়তে হয়েছে।
নিজের সভা বিঘ্নিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”আমায় মিটিংটা পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। আমি পারমিশন নিয়েছি।” পরিস্থিতি আরও ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ”আমাদের মিটিং-এর মাইকটা ক্রস করছে অন্য একটা মাইকের শব্দে। এটা তো হতে পারে না। আমরা অফিসিয়াল পারমিশন নিয়ে করছি।” এই বলেই তিনি সভা ত্যাগ করেন।
জনসভা থেকে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ফোন করে কথা বলার পর তৃণমূলনেত্রী জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ”মিটিং আমার পক্ষে করা সম্ভব? আমি পারমিশন নিয়েছি। সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন কী হচ্ছে। আমি সব অফিশিয়াল পারমিশন নিয়েছি, তারপরও দেখুন কী অ্যাটিটিউড!” বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে তিনি বলেন, ”ওরা জোর করে পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে যা করছে, তা কিন্তু ঠিক নয়।”
সভা না করে চলে যাওয়ার আগে মমতা বলেন, ”এই দেখুন, সামনে চিৎকার করছে, যাতে আমি মিটিংটা করতে না পারি। আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি কাল এখানে র্যালি করে দেব। আমি এই অসভ্যতামি করতে পারব না, এটা খুব অপমানজনক।”
