West Bengal
-Ritesh Ghosh
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার এক জনসভায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল তাদের প্রতিষ্ঠাতা স্লোগান ‘মা, মাটি, মানুষ’ পরিত্যাগ করে পশ্চিমবঙ্গে শাসনের চরম ব্যর্থতা ঘটিয়েছে।
বনগাঁর জনসভায় মোদী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ১৫ বছর আগে ‘মা, মাটি, মানুষ’-এর স্লোগানকে সামনে রেখে ক্ষমতায় এসেছিল, কিন্তু এখন সেই শব্দ উচ্চারণ করতেও দ্বিধা বোধ করে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলার এই নির্বাচন এখন শেষ পর্যায়ে, কিন্তু একটা জিনিস নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন। ১৫ বছর আগে, তৃণমূল ‘মা, মাটি, মানুষ’ বলে ক্ষমতায় এসেছিল। এখন তারা এই শব্দগুলো পর্যন্ত বলতে পারে না। আমি এর কারণ বলছি। এনারা যদি এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেন, তাহলে এঁদের পাপ সামনে এসে যাবে। তৃণমূলের নিষ্ঠুরতা ‘মাকে’ কাঁদিয়েছে, ‘মাটিকে’ সিন্ডিকেট এবং অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে, আর বাংলার ‘মানুষকে’ পালাতে বাধ্য করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটের ফলাফল শাসকদলের আত্মবিশ্বাসকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে ৯৩ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে, যা বিশাল ভোটার উপস্থিতি নির্দেশক। ২৯ এপ্রিল বাকি ১৪২টি আসনে ভোট।
মোদী বলেন, “প্রথম দফাতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অহংকার চূর্ণ হয়েছে। এখন দ্বিতীয় দফায় বিজেপি সরকারের বিপুল জয় নিশ্চিত।” কর্মসংস্থান ও যুবকদের ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “বাংলার যুবকরা ভীষণ প্রতিভাবান। তৃণমূল সরকার যুবকদের মাদকের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বাংলা সৃজনশীলতার স্থান। বিজেপি বাংলার যুবকদের সৃজনশীলতাকে শক্তি দেবে। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলার ছেলে-মেয়েদের মিউজিক ভিডিওগুলি খুব প্রশংসা কুড়োচ্ছে। আমি নিজেও কিছু রিলস দেখেছি। স্পষ্ট কথা, যারা ‘ঝালমুড়ি’-তে বিরক্ত হন, তারা যুবকদের সৃজনশীলতা পছন্দ করেন না। কিন্তু বিজেপি অর্থনীতি এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে বাংলার শক্তি করে তুলবে।”
এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সিন্ডিকেট সংস্কৃতির মাধ্যমে তৃণমূল বাংলার ক্রীড়া পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, “বিজেপি বাংলার ক্রীড়া সংস্কৃতিকে নতুন করে উৎসাহ দেবে। তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ রাজ্যের ক্রীড়া ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে, যেমনটা কয়েক মাস আগে কলকাতার বিরক্তিকর দৃশ্য থেকে দেখা গেছে যা বিশ্বব্যাপী ফুটবল ভক্তদের হতবাক করেছিল – এটা ‘মহা জঙ্গলরাজ’-এর ফল। আমি বাংলার খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করছি যে খেলো ইন্ডিয়া অভিযানের অধীনে রাজ্যে একটি নতুন এবং শক্তিশালী ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।”
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে একাধিক জনসভা করে প্রচার জোরদার করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও দলের মাঠ পর্যায়ের কৌশল পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে বিজেপি মনে করছে, বাংলায় সরকার গড়া তাদের জন্য সময়ের অপেক্ষা।
