West Bengal
-Ritesh Ghosh
বাংলায় নতুন সরকারের শপথগ্রহণ কি ৯মে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিনে। ৯ মে বাংলার ২৫ বৈশাখ। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শপথ ওইদিনে হলেও হতে পারে। তেমনটা হলে এটি কেবল রাজনৈতিক নয়, এক গভীর সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও বহন করবে।
বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক জয় পেয়ে গোটা দেশকে স্তম্ভিত করেছে। শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ে দুশোর বেশি আসনে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির। এই জয়ে রাজ্যে প্রথম দক্ষিণপন্থী সরকার গঠিত হবে, যা বাম ও তৃণমূলের ৪৯ বছরের নিরবচ্ছিন্ন শাসনের অবসান ঘটাবে।

এখন বাংলার রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন: শপথগ্রহণ কবে? এটি কি ২৫শে বৈশাখ, রাজ্যের অন্যতম পবিত্র দিনটিতেই? এই ২৫শে বৈশাখ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী। ২০২৬ সালে তা ৯ মে পড়ছে।
এই জল্পনার সূত্রপাত ২৭ এপ্রিল ব্যারাকপুরে প্রধানমন্ত্রীর শেষ জনসভায়। মোদী বলেছিলেন, “এটি এই নির্বাচনের আমার শেষ জনসভা। ৪ মে ফল প্রকাশের পর আমি নিশ্চয়ই বিজেপির শপথগ্রহণে যোগ দেব, যা আমার উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।” এই ঘোষণায় করতালি ওঠে, জনতা জানত, মোদী কথা দিলে কথা রাখেন।
বাংলার কাছে ৯ মে শুধু ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়; এটি গভীর আবেগ। এই দিনেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মেছিলেন।
ভারতের জাতীয় সঙ্গীত রচয়িতার জন্মদিনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হলে তা এক অসাধারণ তাৎপর্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক বার্তা দেবে। এটি নতুন সরকারের জন্য গভীর প্রতীকী গুরুত্ব বহন করবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী সুনির্দিষ্টভাবে ৯ মে বা পঁচিশে বৈশাখকে শপথগ্রহণের দিন ঘোষণা করেননি। তবে তাঁর ব্যারাকপুরের মন্তব্যে উপস্থিত থাকার প্রতিশ্রুতি ছিল। বিজেপি বড় অনুষ্ঠানের জন্য প্রতীকী তাৎপর্যপূর্ণ তারিখ বেছে নিতে অভ্যস্ত। সেইমতো ৯ মে শপথগ্রহণ হলে বলার কিছু থাকবে না।
যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি। এত জলদি শপথের আয়োজন করা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। শপথগ্রহণের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এরপর রাজ্যপাল একক বৃহত্তম দল বিজেপিকে সরকার গঠনে আমন্ত্রণ জানাবেন। বিজেপিকেও মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থী ঘোষণা করতে হবে, যে নামটি তারা প্রচারের সময় গোপন রেখেছিল।
৯ মে তারিখে শপথগ্রহণ বিজেপির জন্য অসাধারণ কৌশল হতে পারে। যে দল বাঙালিদের সংস্কৃতি, ভাষা এবং আত্মাকে বুঝতে অক্ষম বলে বিরোধীরা প্রচার করেছিল, তাদের জন্য ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীকে শপথগ্রহণের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হবে চূড়ান্ত বার্তা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একজন বাঙালিকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীও এদিন ধুতি-পাঞ্জাবি পরে সদর দফতরে এসেছিলেন। ফলে বিজেপি নতুন চমক দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
