West Bengal
-Ritesh Ghosh
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফলাফল ঘোষণা হতেই এক নতুন প্রবণতা চোখে পড়ছে। এতদিন তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত মুসলিম অধ্যুসিত এলাকাগুলিতে এবার বিজেপি উল্লেখযোগ্যভাবে ভোট পেয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি আসনের মধ্যে ৫৪টি মুসলিম অধ্যুষিত। এই আসনগুলিতে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা বেশি অথবা তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, এই ৫৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৩৩টি ও বিজেপি ১২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।

এই ফল বিজেপির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, যা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় অনেকটাই বেশি। ২০২১ সালে টিএমসি ৫২টি মুসলিম অধ্যুসিত আসনে জিতলেও, বিজেপি পেয়েছিল মাত্র একটি আসন।
২০১৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২৮টি মুসলিম অধ্যুসিত আসন জিতলেও বিজেপি কোনো আসন পায়নি। ২০১১ সালেও তৃণমূল ২১টি, আর কংগ্রেস ১৮টি আসন পেয়েছিল। যা মুসলিম অধ্যুসিত এলাকায় তৃণমূলের দীর্ঘকালীন আধিপত্য প্রমাণ করে।
২০১১ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিম ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করতে নিরন্তর চেষ্টা করেছেন, যা তাঁর নির্বাচনী সাফল্যে নির্ণায়ক ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে, পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার প্রায় ২৭% মুসলিম (২০১১ সালের আদমশুমারি), যা মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন এখন ৩২-৩৩%।
মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর দিনাজপুর-এর মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলি রাজ্যের নির্বাচনে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল মুর্শিদাবাদের ২২টির মধ্যে ১৮টি আসনে জয়ী হয়ে প্রভাব অক্ষুণ্ণ রেখেছিল।
তবে সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংক্রান্ত উন্নয়ন ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) অভিযানে মুর্শিদাবাদে ৪.৫ লক্ষের বেশি এবং মালদায় ২.৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া, অনেক আসনে ভোটার উপস্থিতির হার বেড়েছে; মালদার কিছু কেন্দ্রে এটি ১৪-১৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিজেপির সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী এই সাফল্যের কারণ হিসেবে মুসলিম ভোটের বিভাজনকে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি দক্ষিণবঙ্গেও এই বিভাজন কার্যকর হওয়ায় মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরে তা বিশেষভাবে স্পষ্ট।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “দক্ষিণবঙ্গ এবং কোচবিহারে মুসলিমরা এখনও প্রাথমিকভাবে তৃণমূলের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকলেও, ২০২১ এবং ২০২৪ সালে দেখা ৯০-৯৫ শতাংশ ভোট একত্রিত হওয়ার প্রবণতা এবার আর নেই। সেই সমর্থন ভিত্তিতে দৃশ্যমান ফাটল ধরেছে।”
তিনি যোগ করেন, “এবার হিন্দু ভোট একত্রিত হয়েছে, এবং মুসলিমরা যেভাবে তৃণমূলকে ভোট দিত, এবার তা হয়নি। কিছু ভোট মুসলিমপন্থী দলের কাছে গেছে। বিজেপিও অল্প কিছু ভোট পেয়েছে। নন্দীগ্রামের মুসলিম বুথে এমন ভালো ফল আশা করিনি… প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলা গড়ার যে গ্যারান্টি দিয়েছেন, তা তাদের পক্ষে গেছে। এত তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই।”
অধিকারী বিজেপির এই অগ্রগতির জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “গ্যারান্টি”-এর আবেদনকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
