West Bengal
-Ritesh Ghosh
ইস্তফা দেননি। তবুও আর মুখ্যমন্ত্রী রইলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আরএন রবি রাজ্য বিধানসভার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে তা ভেঙে দিয়েছেন। বিজেপির কাছে বিপুল ভোটে হারের পরও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা না দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। তিনি পদত্যাগ না করায় রাজ্যপাল এদিন আইন মেনে বিধানসভা ভেঙে দিলেন।
আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ না করায়, রাজ্যপাল মমতাকে তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকতে বলতে পারেননি। কলকাতার রাজ্যপালের দপ্তর জানিয়েছে, “ভারতের সংবিধানের ১৭৪(২)(খ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতার বলে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আরএন রবি ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বিলুপ্ত করার নির্দেশ জারি করেছেন।”

বিজেপি নেতাদের ইঙ্গিত, বিদায়ী বিধানসভার মেয়াদ শেষে দুই দিন পর, ৯ মে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ হতে পারে। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীও বটে। একজন আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাজ্যপালই রাজ্যের প্রধান কার্যনির্বাহী থাকবেন।
বিজেপির অভাবনীয় বিজয়ের কারণ ছিল হিন্দু ভোটারদের নজিরবিহীন সংহতি, দক্ষিণবঙ্গের শক্ত ঘাঁটিতে প্রবেশাধিকার, তৃণমূল স্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরোষ এবং ১৫ বছরের সরকারবিরোধী মনোভাব। এই জয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভবানীপুর আসনে বিজেপি-র শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন।
বিজেপি ২০৭টি আসন জেতার একদিন পর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজেপিকে সহায়তার অভিযোগ তোলেন। মঙ্গলবার বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “নির্বাচনে না হারলে কেন রাজভবনে যাব? আমি শপথ নিচ্ছি না, পদত্যাগও করব না। আমরা হারিনি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এটা আমাদের পরাজিত করার তাদের জোরপূর্বক চেষ্টা। আমাদের লড়াই বিজেপি-র বিরুদ্ধে নয়, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ছিল।”
বুধবার তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, তাঁর পদত্যাগে অস্বীকৃতি গণতন্ত্রে “প্রতিবাদের ভাষা”। কুণাল সাংবাদিকদের আরও জানান, “মমতাদির পদত্যাগ জমা না দেওয়া একটি প্রতিবাদের ভাষা, যা প্রতীকী। গণনাতে নির্বাচন কমিশন ১০০টিরও বেশি আসনে ফলাফল কারচুপি করেছে বলে অভিযোগ, এর বিরুদ্ধেই এই প্রতিবাদ।”
