শুভেন্দু অধিকারীই পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী, অমিত শাহ করেই ফেললেন ঘোষণা | শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী, ঘোষণা অমিত শাহের | Suvendu Adhikari Named West Bengal CM By Amit Shah


West Bengal

-Ritesh Ghosh

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত হলেন। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যে বিজেপি ঐতিহাসিক নির্বাচনী জয়ের মাধ্যমে প্রথমবার সরকার গঠন করতে চলেছে। এদিন শুক্রবার এই ঘোষণা রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

বাংলায় আঞ্চলিক ও বামপন্থী দলগুলোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য গত কয়েক দশক ধরে বিজেপি চেষ্টা চালিয়ে আসছিল, তাই এই ঘোষণা তাদের কাছে এক ঐতিহাসিক সাফল্য। বিজেপি ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রীর পদের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল, কারণ বিজেপি নির্বাচনী প্রচারে ‘ভূমিপুত্র’ মুখ্যমন্ত্রীর ধারণার ওপর জোর দিয়েছিল। নির্বাচনের সবচেয়ে প্রতীকী বিজয়গুলির মধ্যে একটি ছিল ভবানীপুরে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অধিকারীর পরাজিত করা, যা তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল।

এছাড়া, অধিকারী নন্দীগ্রাম আসনটিও ধরে রেখেছেন। ২০০৭ সালের ভূমি-অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত এই আসনটিই তাঁকে বাংলার প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এই সপ্তাহের শুরুতে নন্দীগ্রামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধিকারী জানান, তিনি দশ দিনের মধ্যে তাঁর দুটি আসনের মধ্যে একটি ছেড়ে দেবেন। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিজেপি নেতৃত্বই নেবে বলে তিনি স্পষ্ট করে দেন।

তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন: “আমি ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ব ভুলব না।” সমর্থকরা তাঁকে বারবার নন্দীগ্রাম না ছাড়ার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন, যে আসনটিকে তিনি প্রায়শই তাঁর রাজনৈতিক ‘ভদ্রাসন’ বা দুর্গ হিসেবে বর্ণনা করেন।

অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থান বাংলার পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি। একসময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং নন্দীগ্রাম আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ২০১১ সালের ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর বিজেপিতে যোগদান বাংলার রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তন আনে এবং গেরুয়া দলের ক্ষমতার ভিত্তি স্থাপন করে।

বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে অধিকারী এই মুহূর্তটিকে বাংলার রাজনীতিতে “প্রকৃত পরিবর্তন” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আমি ২০১১ সালের পরিবর্তনের অংশ ছিলাম, এবং এখন আমি প্রকৃত পরিবর্তনের অংশ।” রাজ্যের বিজেপির দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অধিকারী যোগ করেন যে, দলটি এমনভাবে কাজ করবে “যাতে বাংলায় বিজেপি সরকার ১০০ বছর থাকে।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *