এসআইআরে নাম কাটা যাওয়া মানেই নাগরিকত্ব হারানো নয়, স্পষ্ট করল সুপ্রিম কোর্ট | সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর প্রক্রিয়ার বৈধতা বহাল রেখেছে | Supreme Court Upholds SIR For Voter List Validity


West Bengal

-Ritesh Ghosh

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার বৈধতা বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবারের রায়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে যে, এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেও তা নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে না।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে, এসআইআর-এর অনুসন্ধান কেবল নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য নয়।

এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আবেদনকারী ও বিরোধী দলগুলো দাবি করছিল যে, নির্বাচন কমিশন পরিচালিত এই এসআইআর প্রক্রিয়া আসলে ‘পিছনের দরজা’ দিয়ে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কৌশল।

নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব নির্ধারণে সক্ষম কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, কমিশন কেবল নির্বাচনী তালিকায় ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি বা বাদ পড়ার যোগ্যতার দিক থেকে বিষয়টি পরীক্ষা করতে পারে।

সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, “কমিশন নাম বাদ দিতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তিনি আর ভারতের নাগরিক নন। এর সঙ্গে নাগরিকত্ব নির্ধারণের কোনও সম্পর্ক নেই।” অর্থাৎ, এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লে নাগরিকত্ব বাতিল হয় না।

আদালত কমিশনের ক্ষমতাও স্পষ্ট করেছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতার বিষয়ে নিজেকে সন্তুষ্ট করার সীমিত উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব নিয়ে অর্থপূর্ণ তদন্ত করতে পারে। তবে এটি নাগরিকত্ব নির্ধারণের সামিল নয়।”

এসআইআর প্রক্রিয়ার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে বেশ কয়েকটি পিটিশনের ওপর এই রায় এসেছে। এই প্রক্রিয়ায় যেসব ভোটারের নাম ২০০২/২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না, তাদের বংশানুক্রমিক সম্পর্ক প্রমাণ করতে বলা হয়।

গত বছর জুনে নির্বাচন কমিশন বিহারে এসআইআর শুরু করে। পরে এটি পশ্চিমবঙ্গ, কেরল ও তামিলনাড়ু-সহ কয়েকটি রাজ্যে প্রসারিত হয়। বর্তমানে এর তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্ব ১৬টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে।

নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়াকে ভোটার তালিকা পরিষ্কার ও নাগরিকত্বের দাবি যাচাইয়ের জন্য অপরিহার্য বললেও, আবেদনকারীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, এসআইআর-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব নির্ধারণ নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার বাইরে।

বুধবার সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, সন্দেহজনক নাগরিকত্বের কারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম তাদের নাগরিকত্ব নির্ধারণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠাতে হবে।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেছেন, “নাগরিকত্ব দাবি নির্ধারণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে চার সপ্তাহের মধ্যে নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর অধীনে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে এমন মামলাগুলি উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”

আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী বিধানসভা বা স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনের আগে (যেটি আগে ঘটবে) যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, নোটিশ দিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শোনার সুযোগও দিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, কর্তৃপক্ষ যদি বাদ পড়া ব্যক্তিরা নাগরিক বলে খুঁজে পায়, তবে তাদের নাম অবশ্যই ভোটার তালিকায় পুনরুদ্ধার করতে হবে, যা তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেবে।

এখন প্রশ্ন হল, নাগরিকত্বের প্রমাণ কী? এটি প্রাসঙ্গিক, কারণ সুপ্রিম কোর্ট ও ইসিআই পূর্বে জানিয়েছিল যে আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়।

এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়, উপযুক্ত পৌরসভা বা সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যু করা জন্ম শংসাপত্র, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ইস্যু করা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট, স্কুল রেকর্ড, পাসপোর্ট এবং জমির দলিল প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্ট নাগরিকত্ব নির্ধারণের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওপর দেওয়ায়, কেন্দ্র কী ধরনের নির্দেশিকা জারি করে, সেটাই দেখার বিষয়। এর ওপরই আগামী দিনের প্রক্রিয়া অনেকাংশে নির্ভর করবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *