Business
-Ritesh Ghosh
এদিন ১ জুন থেকে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। দিল্লিতে ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৪২ টাকা বেড়ে ৩,১১৩.৫০ টাকা হয়েছে, আর কলকাতায় ৫৩.৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,২৫৫.৫০ টাকা। এদিন থেকেই এই নতুন দর কার্যকর।
একইসাথে দিল্লিতে ৫ কেজি ফ্রি ট্রেড এলপিজি (এফটিএল) সিলিন্ডারের দামও ১১ টাকা বাড়িয়ে ৮২১.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ বাড়িয়েছে।

বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের ব্যবহারকারীরা মূল্যবৃদ্ধির সম্মুখীন হলেও, ঘরোয়া গ্রাহকদের জন্য স্বস্তি রয়েছে। ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যে পরিবর্তন না আসায়, বাড়িতে রান্নার কাজে গ্যাস ব্যবহারকারীরা আগের হারেই মূল্য পরিশোধ করবেন।
ওয়ার্ল্ডপ্যানেলের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, জ্বালানির মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ সংকটের কারণে বহু পরিবার গ্যাস ব্যবহার কমাতে, ঐতিহ্যবাহী জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে এবং মাসিক ব্যয় পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে।
চলতি বছরে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বছরের শুরুতে দিল্লিতে ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৬৯১.৫০ টাকা, এখন ৩,১১৩.৫০ টাকা—পাঁচ মাসেই ১,৪০০ টাকারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই ঊর্ধ্বগতি ফেব্রুয়ারিতে ৪৯ টাকা, মার্চে ১১৫ টাকা ও এপ্রিলে রেকর্ড ৯৯৩ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে শুরু। মে মাসে উচ্চমূল্য বজায় থাকলেও, জুনে তা আবারও বাড়ানো হলো।
এই মূল্যবৃদ্ধি দিল্লি ও কলকাতা ছাড়াও দেশের অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতেও বিস্তৃত। মুম্বইয়ে ১৯ কেজি সিলিন্ডার এখন ৩,০২৪.৫০ টাকা, চেন্নাইয়ে ৩,২৩২ টাকা। হায়দরাবাদে ৩,২৯৪ টাকা এবং পাটনায় ৩,৩২২ টাকা।
এলপিজি মূল্যের এই সংশোধন অন্যান্য জ্বালানি দাম বাড়ার পরপরই এসেছে। দিল্লিতে সিএনজি’র দাম প্রতি কেজি ২ টাকা বেড়ে ৮৩.০৯ টাকা, যা গত দুই সপ্তাহে চতুর্থ বৃদ্ধি। ১৫ মে থেকে সিএনজি’র মোট ৬ টাকা প্রতি কেজি দাম বেড়েছিল।
তেল বিপণন সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে সম্প্রতি পেট্রোলের দাম লিটারে ৭.৩৫ টাকা এবং ডিজেলের ৭.৫৩ টাকা বাড়িয়েছে।
বাণিজ্যিক এলপিজি মূল্যের বৃদ্ধির প্রধান কারণ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষত ইরান-সংক্রান্ত সংকট ও উপসাগরীয় উত্তেজনা জ্বালানি পরিবহনে প্রভাব ফেলে বিশ্ববাজারে এলপিজি’র দাম বাড়িয়েছে, ফলে সরবরাহ কঠিন হয়েছে।
ভারত জ্বালানি চাহিদার জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প পাওয়া গেলেও এলপিজি সরবরাহে চাপ রয়ে গেছে, যার ফলে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের এই ঘাটতির ব্যাপক বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
