শিল্প সম্মেলনের নামে কয়েকশো কোটি টাকা নয়ছয় হয়নি তো! কড়া তদন্তের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর | Suvendu Adhikari Probes 635 Crore Biswa Bangla Business Summit Spending Scandal In West Bengal


West Bengal

-Ritesh Ghosh

পশ্চিমবঙ্গেরাজনৈতিক বড়সড় পরিবর্তনের পর এবার আগের রাজ্য সরকারের আমলে হওয়া বিভিন্ন বিতর্কিত আর্থিক সিদ্ধান্তের নিখুঁত হিসাব মেলাতে তৎপর হয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে হওয়া বিভিন্ন উৎসব এবং বিশেষ বাণিজ্য সম্মেলনের নামে সরকারি তহবিলের অপচয়ের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হবে।

রাজ্যে বিগত বছরগুলিতে ঘটে চলা শিল্পখরা কাটাতে এবং বাংলাকে নতুনভাবে শিল্পমুখী করতে এই মুহূর্তে একাধিক জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে শিল্পায়নের নামে ঢাকঢোল পিটিয়ে ইভেন্ট করা হলেও বাস্তবে তার কোনও ইতিবাচক ফলাফল মেলেনি বলে অভিযোগ বর্তমান শাসক দলের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের দিনগুলিতে প্রতি বছর বিপুল আলোড়ন তৈরি করে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন করা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

Suvendu Adhikari announces probe into business summit expenses

সেই মেগা শিল্প সম্মেলনগুলিতে এলাহি আয়োজন সম্পন্ন করতে গিয়ে রাজকোষ থেকে মূলত কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। অথচ এই রাজকীয় সভার দীর্ঘ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় যে শেষ পর্যন্ত বাংলার মাটিতে উল্লেখযোগভাবে কোনও শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি। উল্টে রাজ্যে ব্যাপক কর্মহীনতার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করে বিজেপি সরকার।

এই কারণে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি পূর্বতন প্রশাসনের যাবতীয় বিতর্কিত খরচের প্রকৃত হিসেব জনগণের সম্মুখে তুলে আনার কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের বিলাসবহুল আয়োজনে মোট ৬৩৫ কোটি টাকার যে একটি বিশাল অঙ্ক চলে গিয়েছিল, তা আসলে কোন খাতে ব্যয় হয়েছিল সেটি প্রকাশ্যে আনতে চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী.

এই আর্থিক অস্বচ্ছতার রহস্য উদ্ঘাটন নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে সরাসরি বলেন, “বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন করতে গিয়ে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে ৬৩৫ কোটি টাকা দিয়ে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাড়ব না। পুষ্পাদের অবস্থা তো দেখতে পারছেন। তদন্ত হবে।” এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিন শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত একটি বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখছিলেন। মূলত কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের গৌরবময় সাফল্যের এক যুগ পূর্তি স্মরণ করতেই এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী আরও একবার তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তথা বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার পূর্ব নীতিগুলিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

বিগত অমীমাংসিত আর্থিক দুর্নীতি মামলার দিকে ইঙ্গিত করে শুভেন্দু অধিকারীর মুখে এদিন আরও একবার শোনা গিয়েছে ‘পুষ্পা’ প্রসঙ্গের কড়া উল্লেখ। তিনি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন, যারা সরকারি অর্থ ভুল উপায়ে ব্যবহার করেছে তারা কোনোভাবেই রেহাই পাবে না। তবে কেবল তদন্তই নয়, এর পাশাপাশি বাংলায় আগামী দিনগুলিতে সুস্থ পরিবেশ ও প্রকৃত শিল্পোন্নয়ন হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বক্তব্য, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সঠিক শিল্প ও ধারাবাহিক বিনিয়োগ নিয়ে আসা ছাড়া রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয়। নতুন সরকারের গঠিত শিল্পদপ্তরের সমস্ত টিম বর্তমান পরিস্থিতিতে যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।

সরকারের মূল সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হল ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের সমান্তরাল বিকাশের মাধ্যমে বাংলায় বিপুল কর্মসংস্থান গড়ে তোলা। এই কর্মসংস্থানের হাত ধরেই রাজ্যে যেমন ক্রমান্বয়ে বেকার সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব হবে, তেমনই রুজি-রুজির সংকটে জর্জরিত বহু পরিযায়ী শ্রমিক আবার নিজের রাজ্যে ফিরে আসার একটি বাস্তব সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বাংলার উন্নয়নমূলক কাজ করার ক্ষেত্রেও অনেকটা গতি আসবে এবং রাজ্য সঠিক দিশায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

পরিকাঠামো ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে রাজ্যে প্রথম সারির বড় বিনিয়োগ নিয়ে আসা একান্ত দরকার বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। যখন কোনও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী রাজ্যে আসে, তখন প্রমোদ ভ্রমণের পাশাপাশি ব্রিজ বা উড়ালপুল নির্মাণ, অত্যাধুনিক চিকিৎসাক্ষেত্রের পরিকাঠামোগত রূপান্তর এবং উন্নত রেল যোগাযোগের মতো অপরিহার্য ক্ষেত্রগুলির প্রভূত বিকাশ ঘটে। যার সুফল সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় জুড়ে উপভোগ করতে পারেন।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তাঁর সরকারের কঠোর ও স্বচ্ছ মনোভাব স্পষ্ট করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যাঁরা আসছেন কী কারণে আসছেন, সত্যিই কিছু করতে চান কিনা, এগুলো আমরা দেখে নিতে চাই। জমি, অর্থ তছরুপের কোনও অভিযোগ আছে কিনা। সৌজন্য নাকি ডেস্টিনেশন বেঙ্গল, কী করতে চাইছেন, এগুলো দেখে নিতে চাই।” সরকারের এমন অনড় অবস্থানে অসৎ ব্যবসায়ীরা দূরে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডবল ইঞ্জিনের ভরসায় বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনে একটি শোষণমুক্ত ও সমৃদ্ধ সমাজ নির্মাণ করাই শুভেন্দু অধিকারীর অন্যতম সংকল্প। একদিকে যেমন সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারীদের কড়া শাস্তির মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে কড়া নজরদারিতে বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *