Gobardanga Municipality : টাউন হলের বোর্ডে বানান বিভ্রাট! বিতর্কে গোবরডাঙা পুরসভা, চর্চা নেট মাধ্যমে – gobardanga municipality town hall signboard creates buzz at social media for spelling mistake


গোবরডাঙা পুরসভার টাউন হলের বাইরে লাগানো একটি গ্লো সাইনবোর্ড। টাউন হলের এই সাইনবোর্ড নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে নেট মাধ্যমে। পুরসভার টাউন হলের সেই বোর্ডের বানান দেখে ঘাবড়ে যাচ্ছেন অনেকেই। ‘না জেনেই কি এই বিভ্রাট’ নাকি বোর্ড এতদিন টাঙানো থাকলেও কারও চোখে পড়েনি বিষয়টি, প্রশ্ন করছেন অনেকেই। পুরসভার কাছে এই বোর্ড সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আবেদনও রাখছেন অনেকে।

কী সমস্যা রয়েছে?

টাউন হলের বোর্ডের লেখা রয়েছে, ‘স্বার্ধ শতবর্ষে নবরূপে’। বানানের শ্রাদ্ধ হওয়ায় টিপ্পনী করছেন অনেকেই। বিষয়টি ‘সার্ধশতবর্ষ’ হওয়ার জায়গায় যে বানান লেখা হয়েছে, তাই নিয়ে আপত্তি এলাকার বাসিন্দাদের। অনেকেই এই বোর্ডের ছবি তুলে শেয়ার করছেন সামাজিক মাধ্যমে।

রয়েছে আরও বিতর্ক

আরও একটি বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বোর্ডে লেখা রয়েছে ‘প্রমথনাথ বসু স্মৃতি পৌরটাউন হল’ স্থাপিত – ৮ মার্চ, ১৯৩৬। ইতিহাস বলছে, পুরসভা স্থাপিত হয়েছিল ১৮৭০ সালে। ওয়েবসাইটেও সেটাই উল্লেখ রয়েছে। সেক্ষেত্রে সার্ধশতবর্ষ কেন লেখা হল, সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। রাজ্যের অন্যতম প্রথম পুরসভার মধ্যে একটি হল এই গোবরডাঙা পুরসভা। সর্বোপরি পুরসভার এই টাউন হল নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেক্ষেত্রে এরকম একটি ভুল তথ্য ভরা বোর্ড পুর নাগরিকদের অস্বস্তিতে ফেলছে এবং পুরসভার গরিমা নষ্ট করছেন বলেই মত অনেকের।

এই গোবরডাঙা এলাকার ইতিহাস প্রাচীন এবং গৌরবান্বিত। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার এই জনপদ সাংস্কৃতিক দিক থেকেও অত্যন্ত সম্পদশালী। গোবরডাঙা এলাকা ‘ভিলেজ অব থিয়েটার’ নামেও পরিচিত। এখানকারই ভূমিপুত্র ছিলেন সমাজ সংস্কারক ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহযোগী শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন। জানা যায়, ১৮৫৬ সালে বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে বিধবা বিবাহ আইন পাস করলে শ্রীশচন্দ্র প্রচলিত সংস্কারকে উপেক্ষা করে ৭ ডিসেম্বর কলকাতায় রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুকিয়া স্ট্রিটের বাড়িতে বর্ধমানের বাল্য বিধবা কালীমতীকে বিয়ে করেন। সমাজ সংস্কারে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। গোবরডাঙা পুরসভার প্রথম চেয়ারম্যান হন শ্রীশচন্দ্রই।

New Barrackpore Municipality : নিউ ব্যারাকপুরে বন্ধ বিধান রায় সরণি! দুর্ভোগে বাসিন্দারা, কবে চালু রাস্তা?
এছাড়াও এই অঞ্চলের আরেক কৃতি সন্তান হলেন প্রমথনাথ বসু। যিনি একসময় জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার উচ্চপদে চাকরি করেছেন। এই প্রমথনাথ বসুই ময়ূরভঞ্জ লৌহ খনির আবিষ্কারক ছিলেন। আর তাঁর নামেই তৈরি হয়েছে ‘প্রমথনাথ বসু স্মৃতি গোরবডাঙা পুর টাউন হল। বাংলার কৃতি সন্তানের স্মৃতি বিজড়িত এই টাউন হলের বাইরে টাঙানো বোর্ড নিয়েই সমস্যা। বিষয়টি নিয়ে পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে এক পুরকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের চোখে পড়েছে। সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *