Business
-Ritesh Ghosh
মঙ্গলবার ফের কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি)-এর দাম বাড়ল। দু’সপ্তাহেরও কম সময়ে এটি চতুর্থ মূল্যবৃদ্ধি। মঙ্গলবার থেকে দিল্লিতে প্রতি কেজি সিএনজি-র দাম ২ টাকা বেড়েছে।
গত শনিবার ১ টাকা বৃদ্ধির পর এটি গত ১৫ দিনের মধ্যে সিএনজি-র চতুর্থবার দাম বৃদ্ধি। এই ঘন ঘন মূল্যবৃদ্ধি সিএনজি-চালিত যানবাহনের নিত্যযাত্রীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, বিশেষ করে দিল্লি, কলকাতা, মুম্বইয়ের মতো মেট্রো শহরে, যেখানে বাস ও ক্যাব এই জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

একই সময়ে, তেল বিপণন সংস্থাগুলোও সোমবার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে, যা গত দু’সপ্তাহের মধ্যে চতুর্থবার। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আবহেই এই সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২.৬১ টাকা বেড়ে ১০২.১২ টাকা ও ডিজেলের দাম ২.৭১ টাকা বেড়ে ৯৫.২০ টাকা হয়েছে। প্রধান শহরগুলির মধ্যে কলকাতায় সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে; পেট্রোল ২.৮৭ টাকা বেড়ে ১১৩.৫১ টাকা এবং ডিজেল ২.৮০ টাকা বেড়ে ৯৯.৮২ টাকা হয়েছে।
মুম্বইয়ে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২.৭২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১১১.২১ টাকা ও ডিজেল ২.৮১ টাকা বেড়ে এখন ৯৭.৮৩ টাকা প্রতি লিটার। চেন্নাইয়েও পেট্রোলের দাম ২.৪৬ টাকা বেড়ে ১০৭.৭৭ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২.৫৭ টাকা বেড়ে ৯৯.৫৫ টাকা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতেও জ্বালানির একাধিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছিল। ১৫ মে, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা করে বাড়ানো হয়; এরপর ১৯ মে, লিটার প্রতি ৯০ পয়সা বৃদ্ধি পায়। ২৩ মে, পেট্রোল প্রতি লিটারে ৮৭ পয়সা ও ডিজেল ৯১ পয়সা করে বেড়েছিল।
জ্বালানির মূল্য আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং অভ্যন্তরীণ শুল্কের ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে; ফলে সংঘাতের আগে ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থাকা অপরিশোধিত তেলের দাম এখন ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
পরিবহণ জ্বালানির এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি লজিস্টিক্স ও পরিবহণ খরচ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে সড়কপথে পরিবাহিত পণ্যের দামও প্রভাবিত হবে। এমনকী সাধারণ নিত্যযাত্রীদের প্রতিদিনের যাতায়াত খরচও বৃদ্ধি পাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, কেন্দ্র পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক কমানোর পর প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব ব্যয় বহন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম দ্রুত বাড়লে, গত ২৭ মার্চ প্রতি লিটারে ১০ টাকা আবগারি শুল্ক কমানোর ঘোষণা করা হয়েছিল।
