বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের জট কি কাটল? পিঙ্ক লাইন নিয়ে আশার কথা শোনালেন কর্তৃপক্ষ | বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের বাধা কাটল, দ্রুত শুরু হচ্ছে কাজ | Baranagar-Barrackpur Metro Pink Line Project To Start Soon


West Bengal

-Ritesh Ghosh

অবশেষে আলোর মুখ দেখতে পারে বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্প। ব্লু, গ্রিন, অরেঞ্জ এবং পার্পল লাইনের পর এবার সম্ভবত পিঙ্ক লাইন হিসেবে পরিচিত এই ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটের কাজ দ্রুত শুরু করার তোড়জোড় চলছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সম্প্রতি নতুন করে গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই রুটে মোট ১০টি স্টেশন অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যার মধ্যে কামারহাটি, সোদপুর, খড়দহ এবং টিটাগড় রয়েছে। প্রায় ১৬ বছর ধরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধান বাধা ছিল বিটি রোডের ওপর দুটি পুরনো পাইপলাইন স্থানান্তরের জটিলতা। তবে, সাম্প্রতিক নীতিনির্ধারক বৈঠক এবং কেন্দ্রীয় সরকারি তৎপরতার কারণে প্রকল্পটি আবারও সচল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে রেল সূত্রে খবর।

আসলে, ২০১০ সালে বরানগর থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত বিটি রোড বরাবর মেট্রো লাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পের জন্য ২০৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও, শতাব্দী প্রাচীন টালা ট্যাঙ্কের দুটি পুরনো পাইপলাইন না সরানোর কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বপ্ন দীর্ঘকাল ধরে আটকে ছিল।

এই পুরনো পাইপলাইন সরিয়ে সেখানে নতুন ৬৪ ইঞ্চির পাইপ স্থাপনের দায়িত্বভার ছিল কলকাতা পুরসভা এবং রেল বিকাশ নিগম (RVNL)-এর যৌথ চুক্তির অধীনে। কলকাতা পুরসভার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান যে, বিটি রোডের নীচে টালা-পলতার ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ জলের পাইপলাইন রয়েছে। এগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য, পাশাপাশি মেট্রো প্রকল্পের কাজও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার। এর জন্য অত্যাধুনিক এবং ব্যয়বহুল নির্মাণ ও সংরক্ষণ প্রযুক্তির প্রয়োজন।

এই জটিলতার সমাধানে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ জলের পাইপ ও জল সরবরাহ ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রেখেই রেলের পিলার স্থাপন করা সম্ভব হবে। এছাড়া, পুরো লাইন একবারে ব্যারাকপুর পর্যন্ত না বসিয়ে, দুটি ধাপে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়নের সুবিধার্থে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

প্রথম ধাপে, বরানগর থেকে সোদপুর পর্যন্ত অংশটুকুর কাজ করা হবে। এরপর, পরবর্তী পর্যায়ে বাকি অংশের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। মহকুমা প্রশাসন সূত্র অনুযায়ী, ইতিমধ্যে এই প্রস্তাবগুলি কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (কেএমসি)-এর কাছে জানানো হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে পাইপ সরিয়ে মেট্রো লাইনের পিলার বসানোর এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *