কিন্তু সোনাই টুডুর বিয়ের পরও সেই সম্পর্কের ইতি হয়নি। অভিযোগ, সেই কথা জানাজানি হতেই ১৮ দিনের শিশুকে শ্বাসরোধ করে খুন করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মালতি টুডু। কিন্তু আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করেন তাকে।
এই যাত্রায় সে প্রাণে বেঁচে গেলেও শিশুটিকে আর বাঁচানো যায়নি। খবর পেয়েই শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। ওই শিশুর মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয় বোলপুর হাসপাতালে। এই ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে মালতি টুডু, শিশুর দাদু তালা টুডু সহ চারজনকে।
তবে এই ঘটনার পরই পলাতক শিশুর বাবা সোনাই টুডু। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ওই দম্পতির প্রতিবেশী বিজয় হেম্ব্রম জানান, “পরকীয়ার কারণে সোনাই টুডুর সঙ্গে মালতি টুডুর প্রায়ই অশান্তি হত। এমনকি সোনাই প্রতিদিনই মৃত্যু কামনা করত তার স্ত্রীর। ঝগড়ার সময় স্ত্রীকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দিত।
ওদের বাড়ি থেকে প্রচুর চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ আসছিল শনিবার। অবস্থা চরমে পৌঁছে গেলে আমরা সবাই মিলে দৌড়ে যাই ওদের বাড়িতে। গিয়েই দেখি মালতি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে। আর পাশেই পড়ে আছে মাত্র ১৮ দিনের বাচ্চার নিথর দেহ। আমরাই মালতিকে গলায় ফাঁস লাগানো থেকে উদ্ধার করি”।
যাই হয়ে যাক না কেন, ওই ১৮ দিনের শিশুটির এই ঘটনায় কি দোষ ছিল, আর তার প্রাণ কেন নেওয়া হবে, এই প্রশ্নই উঠছে সব মহলে। এদিকে পুলিশের তরফ থেকে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পারিবারিক অশান্তি না কি অন্য কোনও বিষয় রয়েছে, সবটাই পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
