Baidyabati Municipality : দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2022) একাদশীর (Ekadashi) দিন কাউকে কিছু না বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন কার্তিক দে। ২০ দিন পর বাড়ি ফেরেন তিনি। বাড়ি ফেরার পর থেকেই তাঁর শেকল বাঁধা জীবন।

 

কার্তিক দে

হাইলাইটস

  • দুর্গাপুজোর একাদশীর পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন কার্তিক
  • ২০ পর বাড়ি ফিরে শেকল বাঁধা জীবন কাটাচ্ছেন বৈদ্যবাটির বাসিন্দা
  • ছেলের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য না থাকায় স্থানীয় বিধায়কের দ্বারস্থ পরিবার
West Bengal News : দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2022) একাদশীর (Ekadashi) দিন কাউকে কিছু না বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন কার্তিক দে। তারপর থেকে একেবারে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কোথাও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয় কারও কাছ থেকেই তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। ভেবেছিলেন তাঁদের ছেলের সঙ্গে মনে হয় কোনও দুর্ঘটনা (Accident) ঘটেছে। কিন্তু, ২০ দিন পরই বদলে যায় পরিস্থিতি। বাড়ি ফেরেন কার্তিক। আর বাড়ি ফেরার পর থেকেই তাঁর শেকল বাঁধা জীবন। তাঁর মা সুলতা দে বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করেন। ফলে ছেলের চিকিৎসা (Treatment) করানোর সামর্থ্য নেই তাঁর নেই। অগত্যা, প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে শেকল দিয়ে বেঁধে রেখেই বাড়ি থেকে বেরোতে হচ্ছে তাঁকে। Hooghly News: অচৈতন্য স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ, বলাগড়ে আটক সিভিক ভলান্টিয়ার স্বামী
মা-ছেলের সংসার
বৈদ্যবাটি পুরসভার (Baidyabati Municipality) ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাজার বাগান এলাকার বাসিন্দা সুলতা দে। তাঁর একমাত্র ছেলে কার্তিকের বয়স ২৯। ছোটো বেলা থেকে খুব জেদ ছিল কার্তিকের। মাস দুয়েক ধরে বাড়ির জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দিত, ভেঙে ফেলত। তাই ছেলেকে নিয়ে খুবই চিন্তায় থাকতেন সুলতা। পরিচারিকার কাজ করে কোনও ভাবে সংসার চলে তাঁদের। ছেলের ভালো চিকিৎসা করাতে পারেননি। মানসিক সমস্যার কারণেই বয়স হলেও কোনও কাজকর্ম করতে পারেন না কার্তিক। তবে মানসিক সমস্যা হলেও পুরোপুরি অসংলগ্ন কথা বলতেন না তিনি। Brazilian Footballer Cafu : হুগলিতে এলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার কাফু, উন্মাদনা তুঙ্গে ফুটবল প্রেমীদের
হঠাৎ নিখোঁজ কার্তিক!
পুজোর একাদশীতে হঠাৎই বাড়ি থেকে বেপাত্তা হয়ে যান কার্তিক। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না মেলায় অবশেষে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। কিন্তু, তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। অবশেষে দিন কুড়ি পরে নিজেই বাড়ি ফিরে আসেন কার্তিক। তারপর থেকেই নাকি তাঁর আচরণ আরও অস্বাভাবিক হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তাঁর মা। ঘরে বন্ধ করে রাখলে চিৎকার করতে থাকেন। আবার ছেড়ে দিলে প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান। এদিকে পরিচারিকার কাজ করায় বাড়ি থেকে বের হতে হয় সুলতাকে। অগত্যা ছেলেকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। Amateur Radio : বিপর্যয় মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ হ্য়াম রেডিয়ো, তৈরি ও ব্যবহারের প্রশিক্ষণ হুগলিতে
কার্তিকের শেকল বাঁধ জীবন
এই ভাবেই পায়ের সঙ্গে শেকল বাঁধা অবস্থায় দিন কাটছে কার্তিকের। আর বাড়িতে কেউ গেলে তার সামনে অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করেন তিনি। এদিকে ছেলের চিকিৎসার সামর্থ্য নেই তাই সাহায্যের আবেদন জানান সুলতা দে। তিনি বলেন, “বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে ফেরার পর মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে তাই বেঁধে রাখি। আর কি করব।” খবর পেয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিধায়ক। স্থানীয় বিধায়ক অরিন্দম গুঁই বলেন, “এটা খুবই অমানবিক ঘটনা। বিষয়টি জানা ছিল না। যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে কিছু একটা ব্যবস্থা করব।”

আশপাশের শহরের খবর

Eisamay News App: আশপাশের তাজা ও গুরুত্বপূর্ণ খবর বাংলায় পড়তে ডাউনলোড করুন এই সময় অ্যাপ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version