এই সময়: ট্রেকিংয়ে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হলো এক বাঙালি পর্যটকের। দীপাঞ্জনা বন্দ্যোপাধ্যায় নামে বছর পঁয়ত্রিশের ওই তরুণী কসবার (Kasba) বাসিন্দা। পেশায় ছিলেন আয়কর দপ্তরের আধিকারিক। ৫ নভেম্বর হিমাচল প্রদেশের (Himachal Pradesh) দেরাদুন (Dehradun) থেকে ট্রেকিং শুরু করেন তিনি। বাড়ির লোকজনের কাছে হিমাচল প্রশাসনের কাছ থেকে যে খবর এসেছে, তাতে মাঝপথেই আচমকা শ্বাসকষ্ট শুরু হয় দীপাঞ্জনার। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার দুপুরে সেখানে দীপাঞ্জনার মৃত্যু হয়। দীপাঞ্জনার দেহ আনতে শনিবারই দেরাদুনের উদ্দেশে রওনা হয়ে গিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

South 24 Parganas News : ‘বাজারে যাচ্ছি…’, কয়েক ঘণ্টা পরে প্রেমিকার বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার যুবকের দেহ
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোট থেকেই ট্রেকিংয়ের নেশা ছিল দীপাঞ্জনার। স্বামী আর মেয়েকে নিয়েই ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গী ছিলেন আরও কয়েকজন বন্ধু। এই প্রথম নয়, আগেও বেশ কয়েকবার তিনি ট্রেকিং করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছেন। তাই দীপাঞ্জনার পরিজন ভাবতেই পারছেন না, ট্রেকিংয়ে গিয়ে প্রাণবন্ত মেয়েটার এ রকম পরিণতি হতে পারে।

Aindrila Sharma Health : বাড়ল জ্বর, সংক্রমণের আশঙ্কা! ঐন্দ্রিলার অবস্থার আরও অবনতি
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার পর দুপুরের দিকে কিছুটা সুস্থবোধ করছিলেন দীপাঞ্জনা। ফোনে পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে তাঁর কথাও হয়। আচমকাই বিকেলের পর থেকে দীপাঞ্জনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সন্ধ্যার পর ফোনে খবর আসে দীপাঞ্জনা আর নেই। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীপাঞ্জনার সে রকম কোনও শারীরিক সমস্যা অন্তত তাঁদের জানা ছিল না। শোকস্তব্ধ দীপাঞ্জনার মা বলে চলেছেন, “আমার মেয়ে যেন তাড়াতাড়ি ফিরে আসে। আমি আর পারছি না।” দীপাঞ্জনার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ময়না তদন্তের পর্ব মিটিয়ে তাড়াতাড়ি দেহ কলকাতায় আনার চেষ্টা চলছে।

Bankura Tourism : বাংলার ‘চাঁদের পাহাড়ে’ অভিযাত্রীরা
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমেদাবাদ আইসিএমআর-এর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অকুপেশানাল হেলথের ডিরেক্টর কমলেশ সরকারের সতর্কবার্তা, পাহাড়ে ট্রেকিংয়ে যাওয়ার সময়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভালো। কমলেশ বলেন, “পাহাড়ে উঁচুতে ওঠামাত্রই বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে থাকে। এর জেরে ফুসফুসে জল জমে। এর জেরেই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পাহাড়ে এই ধরনের পরিস্থিতিতে চটজলদি কিছু সুরাহা করা কঠিন। তাই ট্রেকিংয়ে গিয়ে শ্বাসকষ্টের সমস্যা এড়াতে সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখলে ভালো হয়।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version