পুরুলিয়ায় মিঠুন
বুধবার সকালে বার্নপুর থেকে পুরুলিয়া যান মিঠুন। পথে এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারেন। পুরুলিয়ায় দলীয় সভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে তাঁর বাঁকুড়ায় যাওয়ার কথা। ৫ দিনের জেলা সফরে বীরভূম সহ একাধিক জেলায় যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
পুরুলিয়ার সভায় কী বললেন মিঠুন?
এদিন তেমন কোনও বক্তব্য রাখতে দেখা যায়নি মহাগুরুকে। সভার শুরুতেই তিনি বলেন, “আজ আমি কোনও ডায়ালগ দিতে আসিনি, আপনাদের কথা শুনতে এসেছি। আপনাদের যা জিজ্ঞাসা করার আছে, করুন। যার যা মনের দুঃখ-কষ্ট আছে, বলবেন।” স্থানীয়দের সমস্যার কথা শোনার পর মিঠুন এদিন বলেন, “ঘরে ঘরে পোস্টারে বাংলার আবাস যোজনা করে দিয়েছে। যে টাকা পাঠাবে কাকে পাঠাবে? আমি বলছি, সেন্ট্রাল বলছে আগে হিসেব দিন। উঁনি বলছেন আমাদের পয়সা দিচ্ছে না, আমি কী করে দেব।” এরপর বুঝিয়ে তিনি বলেন, “আপনি ধরুন রামকে টাকা দিয়ে বাজারে পাঠালেন। রাম ফিরে এলে তার থেকে হিসেব চাইবেন না? যা পয়সা দিলেন তার তো হিসেব থাকে। যদি বলেন ওটা তো শ্যাম দেখে শ্যামকে দিয়ে দিন। আপনি কি শ্যামকে দেবেন? দেবেন না। রামের টাকা রামকেই দেবেন।”
নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে মিঠুন আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার টাকা সেই আবাস যোজনার ব্যাঙ্কেই আসবে। আপনি পোস্টার মারলে কী করে হবে? এখন সবাই স্বীকার করছে সড়ক যোজনা, আবাস যোজনা যা কাজ হচ্ছে কেন্দ্র করছে। সব পাবে। ওখানকার লোক এসেছে। সব হিসেব আছে। সব টাকা পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার টাকা সবাই পাবেন। কিছু দিনের জন্য টাকা আটকে রাখা এই জন্য কারণ রাজ্য সরকারকে হিসেব দিতে হবে। এটা জনগণের টাকা। সবাইকে হিসেবে দিতে হবে।”
কেন্দ্রকে কটাক্ষ মমতার
প্রকাশ্য সভা থেকে একাধিকবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্র টাকা না দেওয়ায় রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ করানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেছিলেন, “কেন্দ্র একশো দিনের টাকা দিচ্ছে না, জিএসটির (GST) টাকা নিয়ে যাচ্ছে, সাধারণ মানুষকে বঞ্চনা করা হচ্ছে। রাজ্য থেকে জিএসটির নামে টাকা তুলছে কেন্দ্র, কিন্তু রাজ্যের প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না।” যদিও বিজেপি নেতাদের তরফে রাজ্যের কাছে একাধিকবার টাকার হিসেব চাওয়া হয়েছিল। আর এই নিয়েই বুধবার পুরুলিয়ায় মুখ খুললেন মিঠুন।
