
কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির বিশ্বাস বাড়িতে জন্ম গোপাল ভাঁড়ের, স্থানীয়ভাবে জানা যায় এমনটাই। তাঁর প্রসঙ্গে বর্ণনা দিতে গিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে ঘূর্ণির বাসিন্দা তথা স্থানীয় কাউন্সিলর অসিত সাহা বলেন, “আজ বিভিন্ন ছবি থেকে শুরু করে টিভি শোয়ে গোপাল ভাঁড়ের নির্দিষ্ট একটি কার্টুন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু, সেই কার্টুনের সঙ্গে তাঁর শারীরিক কোনও মিল ছিল না। সেই সময় ব্রাহ্মণরা অনেকেই গোপালকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করতেন। ইতিহাস উলটে দেখতে সেই সময় ঘূর্ণি অঞ্চলে ২০০ মানুষের বসবাস ছিল। গোপালের পদবি ছিল ‘না’ অর্থাৎ নাপিত। গোপালের বাবার নাম ছিল দুলাল না। আর জাত নিয়ে ভেদাভেদের কারণেই তাঁকে সেই সময় ব্রাহ্মণরা ছলে বলে কৌশলে বিভিন্ন সমস্যায় ফেলেছিলেন। গোপাল কিন্তু ব্রাহ্মণদের কাছে মাথা নীচু করেননি। বুদ্ধি দিয়ে ‘কুস্তি লড়ে’ কিস্তিমাত করেছিলেন তিনি।”
অসিত সাহা আরও বলেন, “রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভার পরামর্শদাতা গোপালকে রাজা ছাড়া অন্যরা সেভাবে পছন্দ করতেন না। গোপাল নাপিত রাজার কাছের মানুষ হয়ে উঠছেন তা মেনে নিতে পারেননি ব্রাহ্মণরা। কিন্তু, গোপাল লড়ে গিয়েছিলেন। বুদ্ধি, হাসি, মজায় গোপাল জয়ী হয়েছেন বিভিন্ন পরীক্ষায়।” গোপালের জীবন কাহিনী নিয়ে বই লিখেছেন লেখক সুজিত রায় এবং অসিত সাহা। ঘুর্ণির বাসিন্দা শিব হরি সান্যাল বলে গিয়েছিলেন, গোপাল ভাঁড়ে জগৎজোড়া নাম হবে। পদবী না হলেও সেই সময় ব্রাহ্মণরাই তাঁকে গোপাল ভাঁড় বলে ডাকতেন।
গোপাল ভাঁড়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রতি বছর কৃষ্ণনগর কারবালা ময়দানে মেলার আয়োজন করা হয় । ২০০৩ সালের ১৯ অক্টোবর ঘূর্ণিতে প্রবেশের মুখেই তাঁর একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। জানা যায়, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের মৃত্যুর পর মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি তাঁর। খানাকুলে চলে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গোপাল ভাঁড়, জানা যায় এমনটাই।