এই সময়, মেদিনীপুর : চোর ধরে তাকে মারধর না করে, চা-কফি খাইয়ে, সারা রাত বেঁধে রেখে ভোরের আলো ফুটতেই পুলিশের হাতে তুলে দিলেন এলাকাবাসী। মেদিনীপুর শহরের কুইকোটা উদয়পল্লি এলাকার ঘটনা। এর আগে বিভিন্ন এলাকায় চোর ধরা পড়লে তাদের খুঁটিতে বেধে বেধড়ক মারধর করতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু এখানে দেখা গেল উল্টো ছবি। চোরকে একটি চড়ও মারা হয়নি। উল্টে খাওয়ানো হয়েছে কফি।

Howrah News : ফ্ল্যাটে বন্দুক হাতে দুষ্কৃতী, মহিলার চিৎকার পালাতে গিয়েও হল না শেষ রক্ষা!
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “আইন নিজেদের হাতে তুলে না নিয়ে, ধরার পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়াই ভালো।” পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার বলেন, “ওই ঘটনার কথা আমি শুনেছি। আইসি’কে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে বলেছি। জেলার সচেতন মানুষের সাপোর্ট আছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।”

মঙ্গলবার গভীর রাতে মেদিনীপুর শহরের উদয়পল্লি এলাকায় একটি মন্দিরের পাশে দু’জনকে ঘুরতে দেখে সন্দেহ হয় এক কিশোরের। বাবা-মাকে ডেকে তোলে সে। সকলে তাড়া করে একজনকে ধরতে পারলেও অন্যজন পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা আওয়াজ পেয়ে উঠে এলে, ধৃতকে ঠান্ডায় কাঁপতে দেখে কফি বানিয়ে খাওয়ান গৃহকর্ত্রী লক্ষ্মী ঘোষ।

Kartik Puja 2022 : কার্তিক ফেলতে গিয়ে ‘কেস’, থানায় রাত্রিবাস
সারা রাত ধৃতকে কীভাবে রাখা হবে?

উপায় খুঁজে না পেয়ে প্রতিবেশীরা একটি দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন অভিযুক্তকে। সারা রাত বেঁধে রাখার পর সকালে পুলিশকে ফোন করে ডেকে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চুরি করতে এসেছিল দু’জন। নাগ ভাণ্ডার নামে একটি দোকানের তালাও ভাঙে। তারপর পাড়ার একটি মন্দিরের কাছে ঘোরাঘুরি করছিল। লক্ষ্মী দত্ত বলেন, “রাত আড়াইটে নাগাদ আমার ছেলে ক্যাটারিংয়ের কাজ করে বাড়ি ফেরার সময় মন্দিরের কাছে দু’জনকে ঘুরতে দেখে। একজন দৌড়ে পাঁচিল টপকে পালিয়ে যায়। অন্যজন পালাতে পারেনি। ধৃতদের কাছ থেকে একটি লোহার রড, একটি ছোট মোবাইল, অ্যালুমিনিয়ামের বালতি-কলসি পাওয়া গিয়েছে। কিছুটা দূরে দু’টি সাইকেলও ছিল। ধরতে গেলে আমার ছেলেকে রড দিয়ে মারতে গিয়েছিল। কোনও ভাবে সে নিজেকে রক্ষা করে। এরপরেও ওই চোরকে পাকড়াও করে কোনও রকম মারধর করা হয়নি। বরং ঠান্ডায় কাঁপছে দেখে কপি-চা করে খাওয়ানো হয়। সকালে পুলিশকে ফোন করে ডেকে পুলিশের হাতেই তুলে দিয়েছি।”

Paschim Medinipur : হাতেনাতে পাকড়াও চোর! খুঁটিতে বেঁধে ‘শাস্তি’ দিল গ্রামবাসীরা
দোকানের মালিক শ্যামলী নাগ বলেন, “রাতে বাইরে থেকে আমাদের ঘরের দরজা আটকে, বাড়ির পাশে থাকা দোকানের তালা ভাঙে। ভিতর থেকে লক থাকায় দোকানে ঢুকতে পারেনি। শীতের রাতে কিছুই বুঝতে পারিনি। ভোরে উঠে বাড়ির বাইরে বেরতেও পারিনি। পাশের বাড়ির লোককে দিয়ে বাইরে থেকে আটকানো দরজা খোলার পরে বেরিয়ে দেখি দোকানের তালা ভাঙা। পাড়ায় একজন চোরকে ধরেছে শুনে গিয়ে দেখি, ধৃত ওই ব্যক্তির কাছে আমাদের দোকানের ভাঙা তালাটি রয়েছে।” এক প্রতিবেশী বলেন, “ধরার পরে মারতে ইচ্ছে করছিল, কিন্তু সবার আপত্তিতে মারধর না করেই তুলে দেওয়া হয়েছে পুলিশের হাতে।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version