
আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বুধবার শুরু হয়েছে সিপিএমের রাজ্য কমিটির দু’দিনের বৈঠক। নিচু তলায় রাম-বাম জোটের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে কয়েকটি জেলার নেতৃত্ব রিপোর্ট দিয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুরে সমবায় নির্বাচনে এই প্রবণতা প্রকট হয়েছে। তবে অন্য কয়েকটি জায়গাতেও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে তৃণমূলকে হারাতে একের বিরুদ্ধে সব পক্ষের একজোট হওয়ার মনোভাব দেখা যাচ্ছে বলে রাজ্য কমিটির একাধিক সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বুধবারই পূর্ব মেদিনীপুরের গোপালপুর সমবায় সমিতির ৬২টি আসনে বাম-বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা জোট করে লড়েও পরাজিত হয়েছেন। ৬১টি আসনেই জয় পেয়েছে তৃণমূল, একটি আসন পেয়েছে বিরোধী জোট।
এ দিন রাজ্য কমিটির বৈঠকে নেতাদের একাংশের বক্তব্য, তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের দুর্নীতি, টাকা নয়ছয়, গাজোয়ারি মনোভাবের ফলেই মরিয়া হয়ে কিছু জায়গায় শাসক দলের বিরুদ্ধে সমস্ত বিরোধীপক্ষের একজোট হওয়ার মনোভাব দেখা যাচ্ছে। এই মনোভাবের কারণেই পূর্ব মেদিনীপুরে সমবায় নির্বাচনে বিজেপি অথবা কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএম তথা বামপন্থীদের হাত মেলাতে দেখা গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে সিপিএমের যে সদস্যরা পার্টি লাইন উপেক্ষা করে রাম-বাম জোটে মদত দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কমিশন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। কিন্তু যে সব জেলায় সমবায় নির্বাচন হয়নি, সেখানেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্য কমিটির কয়েক জন সদস্য। ওই নেতারা আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে আরও কঠোর নির্দেশিকা জারি করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
এর পাশাপাশি, নভেম্বর মাস জুড়ে সিপিএম জেলায় জেলায় যে গ্রামীণ পদযাত্রা করেছে, সেই মিছিলে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকা কর্মী-সমর্থকরা যোগ দিয়েছেন বলে বেশ কয়েকটি জেলার নেতৃত্ব রিপোর্ট দিয়েছেন। যে সব তল্লাটে গত এক দশকে মিছিল করা যায়নি, সেখানে মিছিল করা গিয়েছে বলে পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলির নেতৃত্ব দাবি করেছেন। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের মাপকাঠি-সহ বিভিন্ন গাইডলাইন আজ সেলিম জানাবেন রাজ্য কমিটির বৈঠকে।
