স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন রাতে টিটাগড় পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কারবালায় পাড়ার রাস্তায় কয়েকটি ছেলে খেলা করছিল। তারপর শীতের হাত থেকে বাঁচতে শুকনো কাঠ-পাতা জড়ো করে তাতে আগুন ধরিয়ে তাপ পোহাচ্ছিল তিন খুদে। আচমকাই একটি বোমা বিকট শব্দে ফাটে। বিস্ফোরণের খুব কাছেই ছিল ১১ বছরের মহম্মদ আফরোজ। বোমায় আফরোজের একটা হাত গুরুতর জখম হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। ততক্ষণে লোকজন ছুটে এসেছেন। তড়িঘড়ি জখম শিশুকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যারাকপুর বিএন বোস হাসপাতালে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে রাতেই স্থানান্তরিত করা হয়েছে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসে টিটাগড় থানার পুলিশ। শুরু হয় মজুত বোমার খোঁজে তল্লাশি। একটি তাজা বোমাও মেলে। চলে আসেন টিটাগড় পুরসভার চেয়ারম্যান কমলেশ সাউ৷ প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, যেখানে আগুন জ্বালিয়ে বাচ্চারা বসেছিল, তার কাছাকাছি বোমা মজুত করে রাখা ছিল। সেই মজুত বোমার একটি ফেটে যায়।
এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কারবালার বাসিন্দারা। দুষ্কৃতীদের মজুত করে রাখা বোমায় এক বালকের এই ভাবে জখমের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে বোমা মজুত করেছিল, তা নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে টিটাগড় থানার পুলিশ। টিটাগড় পুরসভার চেয়ারম্যান কমলেশ সাউ বলেন, ‘বাচ্চাদের আগুন পোহানোর জায়গার পাশেই বোমা রাখা ছিল। কোনও ভাবে একটা বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। তাতেই জখম হয়েছে মহম্মদ আফরোজ। পুলিশকে বলেছি, দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে।’
