
পর পর দু’বছর করোনার কারণে শীতের মরশুম একেবারে সুখা গিয়েছে। সেভাবে পর্যটকের দেখাই মেলেনি মাইথন, কল্যাণেশ্বরীতে। ফলে মাইথনে পর্যটন ঘিরে সারা বছর বেঁচে থাকেন যাঁরা, সেই নৌকার মাঝি থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী, হোটেল মালিক প্রত্যেকেই আর্থিক সঙ্কটে পড়েছিলেন। এবার তাঁদের আশা, এই শীতে পর্যটকদের ভিড় হবে আশাতীত। ফলে আকর্ষণ বাড়াতে আরও সাজিয়ে তোলা হলো জলধার, পার্শ্ববর্তী জঙ্গল, বিখ্যাত কল্যাণেশ্বরীর মন্দিরের মাইথনকে।
ইংরেজি নতুন বছর আসতে হাতে গোণা কয়েক’টি দিন বাকি। তবে তার আগেই ডিসেম্বরের শুরুতে জমে উঠেছে পিকনিক। এদিন সেই মাইথন ড্যাম ঘুরে পিকনিকের জায়গাগুলি পরিদর্শন করেন বিধান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ফাল্গুনী কর্মকার ঘাসি ও জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমান। স্থানীয় ১৮০ জন নৌ চালকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন বিধায়ক। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সব নিয়ম মেনে জলে ঘোরাতে হবে পর্যটকদের। বাধ্যতামূলক করতে হবে লাইফ জ্যাকেট। তিনি বলেন, ‘মানুষ আনন্দ করতে মাইথনে আসেন। তাই প্রতি বছরের মতো এ বারও আমাদের দলের তরফ থেকে শিবির করা হবে। কারও কোনও অসুবিধা হলে আমাদের দলের ছেলেরা তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন। সরকারের পক্ষ থেকে ব্লক, পঞ্চায়েতের কর্মী-আধিকারিকরা থাকবেন। ইতিমধ্যে টহল দিতে শুরু করেছে পুলিশ।’
পিকনিকের মরশুমে খেয়াল রাখা হচ্ছে পরিবেশের দিকেও। ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি বিজয় সিং ও শ্রমিক নেতা মনোজ তিওয়ারি বলেন, ‘প্রত্যেকটি জায়গায় ফেস্টুন লাগিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে কেউ প্লাস্টিক, থার্মোকল ব্যবহার না করেন। ডিজে বাজাতে নিষেধ করা হচ্ছে এবং মদ বা মাদকজাতীয় কোনও জিনিস এই এলাকায় নিয়ে আনা যাবে না।’ গত বছরের তুলনায় মাইথনে এবার পার্কিং ফি কমানো হয়েছে। বাসের ক্ষেত্রে ২৫০ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ২০০ টাকা। গাড়ির পার্কিং ফি ছিল ১২০ টাকা। এবার তা কমে হয়েছে ১০০ টাকা।