Sikkim Tourism : বেড়াতে গিয়ে থানার দুয়ারে! সিকিমে পর্যটন ঘিরে নৈরাজ্য – sikkim tourism west bengal tourists facing fraud problems


এই সময়: নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে (NJP Station) নেমে কলকাতার পরিচিত ট্রাভেল এজেন্টের দেওয়া নম্বরে গাড়ির চালককে বারকয়েক ফোন করেছিলেন বারাসতের শুভঙ্কর চৌধুরী। কিন্তু সাড়াশব্দ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কলকাতার এজেন্টকে (Kolkata Agent) ফোন করেন তিনি। পর্যটন ব্যবসায়ী এ বার নিজেই ফোন করলেন চালককে। লাভ হলো না। ফোনটা সুইচড অফ। এনজেপি স্টেশনে আরও কয়েক ঘণ্টা সপরিবার অপেক্ষা করলেন শুভঙ্কর। শেষ পর্যন্ত একটা গাড়ির ব্যবস্থা হলো, কিন্তু খরচ বাড়ল তিন গুণের বেশি। পাদামচেন থেকে সকাল সকাল বেরিয়ে জুলুক, নাথাং ভ্যালি, কুপুপ লেক পেরিয়ে ছাঙ্গু যাওয়ার উত্তেজনায় রাতভর ঘুমোতে পারেনি নবম শ্রেণির শ্রেয়সী। কিন্তু পরদিন সকাল থেকে তার অপেক্ষাই সার হলো। গাড়ির অভাবে কোথাও যাওয়া হলো না ১১ জনের দলটার। তাদের গাড়ির বুকিং থাকলেও যে দুই চালকের আসার কথা ছিল, তাঁরা অন্য কোথাও ভাড়া নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ছাঙ্গু দেখা হলেও গাড়ি-ভাড়ার বহর সব আনন্দে জল ঢেলে দেয়।

Sikkim Tourism : সিকিম বেড়ানোর প্লান ? মেনে চলতে হবে এই শর্ত গুলি
শীতের মরশুমে বাংলার যে বিপুল-সংখ্যক পর্যটক এ বার সিকিম বেড়াতে গিয়েছেন, তাঁদের বড় অংশের অভিজ্ঞতাই শুভঙ্কর বা শ্রীরামপুরের শ্রেয়সীদের মতো। ডিসেম্বরে সিকিম বেড়াতে যাওয়ার জন্য বছরের মাঝামাঝিরও আগে কলকাতার পর্যটন ব্যবসায়ীদের হাতে আগাম টাকা দিয়েছেন পর্যটকরা। কিন্তু এনজেপি বা বাগডোগরায় নামার পর তাঁরা বোঝেন, সিকিম ভ্রমণ যতটা মসৃণ হবে বলে মনে করা হচ্ছিল, পরিস্থিতি তেমন নয়। অসন্তুষ্ট পর্যটকরা বিভিন্ন জায়গায় বেড়ানো ভুলে থানা-পুলিশ পর্যন্ত করেছেন। এরপর নড়েচড়ে বসেছে সিকিমের পর্যটন দপ্তর। গত ৪ জানুয়ারি পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে সরকারি এই দপ্তর। তারা জানিয়েছে, ঝামেলা এড়াতে সিকিম প্রশাসনের অনুমোদিত পর্যটন ব্যবসায়ী ছাড়া কারও মাধ্যমে বেড়ানোর প্যাকেজ বুক না করাই ভালো।

Sikkim Weather : পর্যটকদের পোয়া বারো, বরফে মোড়া সিকিমে পারদ নামল মাইনাসে
এমন নির্দেশিকায় বিরক্ত বাংলার পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, সিকিম প্রশাসনের কড়া মানসিকতার অভাবেই সেখানে বেড়াতে গিয়ে হয়রান হচ্ছেন গোটা দেশের পর্যটকরা। উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম সিকিমে বেশ ক’টি রিসর্ট আছে পর্যটন ব্যবসায়ী কিংশুক মজুমদারের। তিনি বলেন, ‘কলকাতা থেকে বেড়ানোর প্যাকেজ-বাবদ সিকিমের গাড়ি চালকরা আগাম টাকা নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সকলেই নাকাল হন। শেষবেলায় গাড়ির ব্যবস্থা করতে গিয়ে খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়।’ কতটা বাড়ে গাড়ির খরচ? ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, শুরুর দিকে দিনে পাঁচ হাজার টাকা হিসাবে গাড়ি ভাড়া হয়। পরে সেটা বেড়ে ৩০ হাজার টাকাও হতে পারে।

G-20 Summit : জি-২০ বৈঠকের প্রস্তুতির চিহ্ন নেই, হতাশ পর্যটন ব্যবসায়ীরা
বাংলার পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ সরকার সিকিম প্রশাসনের সতর্কবার্তার প্রতিবাদ করছেন। তিনি বলেন, ‘সিকিম থেকে আমাদের অনুমোদন নিতে হবে কেন? আমরা তো ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই ব্যবসা করছি।’ পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠনের অভিযোগ, সমস্যাটা সিকিমের। ওই রাজ্যের প্রশাসকরা নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম তৈরি করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *