West Bengal Local News বকেয়া ডিএ নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবার সাংসদের বিরাগভাজন হলেন প্রধান শিক্ষক। এমনকী এই প্রশ্নের কারণে রীতিমতো শোকজের মুখে বাঁকুড়ার এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ায়। তৃণমূল সাংসদ মালা রায়কে সামনে পেয়ে ডি.এ নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়ায় শাসক দলের রোষানলে পড়লেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এমনকি তাঁকে ‘শোকজে’র হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, রাজ্যে মিড ডে মিল নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। সেই সমস্ত অভিযোগের পর রাজ্যে মিড ডে মিলের অবস্থা খতিয়ে দেখতে আসছে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। তার আগেভাগেই স্কুলগুলির অবস্থা পরিদর্শনে নেমেছে খোদ শাসক দল। এদিন দলের সাংসদ ‘দিদির দূত’ মালা রায়ের নেতৃত্বে বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি দিব্যেন্দু সিংহ মহাপাত্র সহ অন্যান্যরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেসময়ই গঙ্গাজলঘাটি দক্ষিণ চক্রের জেনাডিহি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান সাংসদ মালা রায়, তৃণমূল সভাপতি দিব্যেন্দু সহ কর্মী-সমর্থকেরা।

Malda News : মিড ডে মিলের ‘মান’ ফেরাতে আসরে মন্ত্রী, চেখে দেখলেন পড়ুয়াদের খাবার

জানা গিয়েছে, সেসময়ই সাংসদকে সামনে পেয়ে বকেয়া ডিএ সম্পর্কে জানতে চান ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তৃণমূলের সমস্ত নেতৃত্বের সামনেই লম্বা কথোপকথনের মাঝে প্রধান শিক্ষক সাক্ষী গোপাল মণ্ডল মালা রায়ের কাছে বকেয়া ডি.এ কবে পাওয়া যাবে সেই নিয়ে জানতে চান। সেই মুহূর্তে মালা রায় তাঁর মতো করে উত্তর দিলেও পরে উলটো সুর শোনা যায় তাঁর মুখেও। গাড়িতে বসে ‘মিড ডে মিল চুরি, ইন্সপেকশান দরকার’ এসব কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে। এমনকি মালা রায়ের সফর সঙ্গী গঙ্গাজলঘাটি ব্লক-১ তৃণমূল সভাপতি নিমাই মাঝিকে ফোনে কাউকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায় শোকজের কথা। তিনি তাঁকে তৎক্ষণাৎ শোকজ করার নির্দেশ দিচ্ছেন বলে শোনা যায়।

Mid Day Meal : মাত্র ৫ টাকা ৪৫ পয়সা কী ভাবে পুষ্টি! প্রশ্ন বরাদ্দেই

বিষয়টি নিয়ে পরে প্রধান শিক্ষক সাক্ষী গোপাল মণ্ডলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি অনুযোগ করেন, ”দিদি মালা রায়ের কাছে আমি ডি.এ নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলাম বলেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।” উলটে তাঁকে মিড.ডে মিল নিয়ে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন। প্রধানশিক্ষক বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে।

DA Update Today: সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিল DA মামলার শুনানি

পরে এই প্রসঙ্গে ‘দিদির দূত’ সাংসদ মালা রায়কে প্রশ্ন করলে তাঁর গলায় শোনা যায় ক্ষোভের সুর। তিনি বলেন, উনি (প্রধান শিক্ষক) ডি.এ নিয়ে যতটা চিন্তিত স্কুলের বাচ্ছাদের নিয়ে উনি ততটা চিন্তিত নন। ‘দিদির দূত হয়ে আমি এসেছি কোথায় স্কুলের কথা, স্কুলের ছেলে মেয়েদের কথা, পড়াশুনার কথা না বলে তিনি আগেই ডি.এ-র কথা তুললেন! একই সঙ্গে সরকারি সমস্ত ব্যবস্থা থাকা সত্বেও ‘মিড.ডে মিলে নজরদারি নেই, তা কোথায় চলে যাচ্ছে’ বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন। স্থানীয় নেতৃত্ব যেমন বিশেষ করে ‘নজরদারি’ চালাবেন, তেমনি তিনিও এই স্কুল নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে ‘রিপোর্ট জমা দেবেন’ বলেও জানান সাংসদ মালা রায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version