অভাবের সংসার। নাবালিকা মেয়েকে ‘সুপাত্র’-এর হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল পরিবার। আইনের তোয়াক্কাও করেনি তারা। এদিকে পাত্র HIV পজিটিভ। কনের বাড়ির লোকজনদের তরফে গোপন করেছিল সেই তথ্যও। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর থানার আশুতিয়া গ্রামে। এই খবর পেয়েই বৃহস্পতিবার সাতসকালে মেয়ের বাড়িতে হাজির হন স্থানীয় আশা কর্মী। নাবালিকার কেন বিয়ে দেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্ন তুলে বিয়েতে আপত্তি জানান তিনি। তখনও পাত্রের HIV-তে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি অজানাই ছিল। আশাকর্মী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন পাত্রের বাড়ি পূর্ব রাধাপুর গ্রামে। এরপর তার বিষয়ে জানতে সরাসরি যোগাযোগ করেন পূর্ব রাধাপুর গ্রামের আশা কর্মীর সঙ্গে। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে কেউটে। জানা যায়, ওই ব্যক্তি HIV পজিটিভ। কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকে সে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের অধীনেই চিকিৎসাধীন সে। খবর শুনেই চোখ কপালে উঠে আশা কর্মীর। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি জানান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। শেষমেষ ভগবানপুর থানার পুলিশ ওই নাবালিকার গ্রামে উপস্থিত হয় এবং অভিযুক্ত বর সহ তার সঙ্গীদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় খুলতে চায়নি কন্যা পক্ষ বা পাত্র পক্ষ। নাবালিকা কন্যা ও তার বাবাকেও আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
East Medinipur News : ‘দেখবি যদি আয় চলে..’ গানের সুরেই ক্রেতা টানেন কোলাঘাটের ফুল কাকু প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে সেই মোতাবেক নাবালিকার পরিবারকে HIV আক্রান্ত হওয়ার খবর পাত্রের পরিবারের তরফে জানানো হয়নি। জামাই সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা। সংশ্লিষ্ট আশাকর্মী জানিয়েছেন, তিনি HIV সংক্রমণের বিষয়টি জানার পরেই কন্যার পরিবারের সদস্যদের জানান। তিনি বলেন, “আমাদের তরফে যে যে সতর্কবার্তা দেওয়ার ছিল আমরা দিয়েছি।” এই বিষয়টি জানাজানি হতেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায়। যদিও এই বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি সেই পাত্র।
PM Awas Yojana: ‘ভুল করেছেন না চাপে পড়ে কাজ করেছেন?’ মহিষাদলে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের ধমক খেলেন BDO সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায় তাকে। গ্রামবাসীদের কথায়, ওই নাবালিকার পরিবার অত্যন্ত গরীব। তাই একেবারেই সাদামাঠাভাবে আয়োজন করা হয়েছিল বিয়ের। সেখানেই এই কাণ্ড ঘটে। পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও কোনও অভিযোগ পাত্রীর বাড়ির পক্ষ থেকে করা হয়নি। তবে যদি HIV আক্রান্ত হওয়ার তথ্য গোপন করে কেউ বিয়ে করলে তা আইনত গুরুতর অপরাধ। সেক্ষেত্রে অপর মেয়ের জীবনও সংকটে ফেলা হচ্ছে।