আদালত থেকে বেরিয়েই মাথা কামিয়ে নিয়েছেন কৌস্তভ বাগচী। শপথ নিয়েছেন, যতদিন না পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গদিচ্যুত হচ্ছে, ততদিন মাথায় একটা চুলও গজাতে দেবেন না। এই নিয়ে এবার কংগ্রেস নেতাকে তীব্র কটাক্ষ করলেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। কৌস্তভকে ‘অতি সাধারণ একটি হাইপোথেটিক্যাল প্রশ্ন’ তৃণমূলের এই যুব নেতা।


Ambikesh Mahapatra on Koustav Bagchi : ‘মমতা আর গণতন্ত্র? ঠিক যেন কাঁঠালের আমসত্ত্ব!’ কৌস্তভের গ্রেফতারিতে তীব্র আক্রমণ অম্বিকেশের
কৌস্তভকে কী প্রশ্ন দেবাংশুর?

নিজের টুইটার এবং ফেসবুক হ্যান্ডেল থেকে কৌস্তভ বাগচীর উদ্দেশে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। তাঁর প্রশ্ন, “ধরুন ২০২৪-এ দিল্লিতে UPA সরকার গড়তে তৃণমূলের সমর্থন লাগল। ধরুন তৃণমূল সমর্থন দিয়েও দিল। সেদিন বাগচীবাবুর ‘চুল’ কেন্দ্রীক অবস্থান কী হবে?”

কেন মস্তক মুণ্ডন কৌস্তভের?

আদালত চত্বরের বাইরেই মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলেন কংগ্রেস নেতা। আইনজীবী কৌস্তভ বাগচীর হুংকার, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাতের ঘুম কেড়ে নেব। যতদিন না এই স্বৈরাচারী সরকার গদিচ্যুত হচ্ছে, ততদিন আমার মাথায় একটি চুলও গজাব না। এটাই আমার প্রতিবাদের ভাষা। এটাই আমার শপথ।” একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে অধীর চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চাইবেন, তারপর আমিও ক্ষমা চাইব।”

Koustav Bagchi : আদালতে সওয়াল একাধিক আইনজীবীর, জামিন মঞ্জুর কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচীর

ঘটনার সূত্রপাত

ঘটনার সূত্রপাত সাগরদিঘি নির্বাচনের ফলাফল। ঘিরে। ২ মার্চ সাগরদিঘি উপ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই দেখা যায় বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী। এরপরই নবান্ন থেকে এই ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অধীর চৌধুরীকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে আসরে নামে কংগ্রেসও।


আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচীকে দেখা যায় এরপরই একটি সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা একটি বইয়ের উল্লেখ করে সেটি জনে জনে হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করার কথা। যা অত্যন্ত অশালীন এবং মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য বলেই অভিযোগ দাগে তৃণমূল শিবির।

Koustav Bagchi News : ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাতের ঘুম কেড়ে নেব’, জামিন পেয়েই ন্যাড়া হলেন কৌস্তভ
এরপরই দেখা যায় শুক্রবার ভোররাতে কৌস্তভ বাগচীর বাড়িতে হাজির হয় বড়তলা থানার পুলিশ। তাঁকে জানানো হয়, তাঁর নামে একটি FIR দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার করা হয় কৌস্তভকে। যদিও তখন কৌস্তভের দাবি ছিল, অ্যারেস্ট মেমো ছাড়াই তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর শুরু হয় আইনি প্রক্রিয়া। তাঁর হয়ে ব্যাঙ্কশাল আদালতে একাধিক আইনজীবী জোরাল সওয়াল করেন।

Shashi Panja On Koustav Bagchi : ‘রোদ্দুর রায় আর কৌস্তভ বাগচী সমান অপরাধী’, তোপ শশীর
আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর হয়ে এই মামলা লড়েন। তিনি জানান, এই গ্রেফতারি সম্পূর্ণ বেআইনি। অনৈতিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আট ঘণ্টা লড়াইয়ের পর অবশেষে জামিন পান কৌস্তভ বাগচী। এরপরই আদালতের বাইরে বেরিয়ে তিনি মাথা মুণ্ডন করে শপথগ্রহণ করেন। বলেন, “ভোটের ময়দানে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাতের ঘুম কেড়ে নেব।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version