Recruitment Scam: নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ইডি হাতে ধৃত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। চাকরি বিক্রি সহ একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে । দুর্নীতিতে নাম জড়াতে ইডি গ্রেফতারের ছয় দিনের মধ্যেই দল থেকে বহিষ্কৃত হুগলি বলাগড়ের নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। দল থেকে নাম কাটা পড়তেই তড়িঘড়ি বিভিন্ন জায়গায় শুরু নাম ঢাকার উদ্যোগ।

মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে বরখাস্ত করা হতেই বলাগড় বিজয়কৃষ্ণ কলেজে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঢেকে ফেলার কাজ। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তির উদ্বোধক হিসাবে নাম ছিল কলেজ পরিচালন সমিতির প্রাক্তন সভাপতি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের,সেই নাম ঢেকে দিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। বলাগড় বিজয়কৃষ্ণ কলেজে শান্তনুর আমলে নিয়োগ নিয়েও উঠল প্রশ্ন।

Santanu Banerjee : সিমকার্ডের দোকান থেকে ধাবা, রিসর্টের মালিক! শান্তনুর উত্থানে হতবাক পড়শিরা

২০১৫ সাল থেকে পাঁচ বছর বলাগড় কলেজের সভাপতি ছিলেন শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কলেজে ২০১৯ সালে বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের একটি আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়। সেসময় কলেজ সভাপতি পদে থাকার কারণে মূর্তিটি উদ্বোধন করেন শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়।

উদ্বোধক হিসেবে এতদিন ফলকে জ্বলজ্বল করছিল তাঁর নাম। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় বদলে গিয়েছে সব কিছু। মঙ্গলের দুপুরে দল থেকে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় সাসপেন্ড হতেই পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। বুধবার তড়িঘড়ি সেই নামের ফলক ঢেকে দেয় কলেজ।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”শান্তনু দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে।দলও তাকে বহিষ্কার করেছে তাই আমরা ফলক ঢেকে দিয়েছি।”

Santanu Banerjee: সিম বিক্রেতা থেকে বিদ্যুৎ সংস্থার সামান্য চাকরিতেও অগাধ সম্পত্তি! শান্তনুর লাইফস্টাইল নিয়ে অস্বস্তি দলেও

এখানেই শেষ নয়, প্রশ্ন উঠেছে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় সভাপতি থাকাকালীন হওয়া নিয়োগগুলি নিয়েও। বলাগড় কলেজে শান্তনুর আমলে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপি স্থানীয় নেতৃত্ব চিরঞ্জিত রায়ের অভিযোগ,”শান্তনু কলেজে সভাপতি থাকাকালীন কয়েকজনকে নিয়োগ করা হয়েছে, যেটা স্বচ্ছ নয়।”

কলেজ অধ্যক্ষ বলেন,”কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে ইন্টারভিউ নিয়ে নিয়োগ হয়েছে। তবে পরে জানতে পারি চারজনকে নেওয়া হয়েছে প্রত্যেকেই স্থানীয়। মোট সাতজন অস্থায়ী অশিক্ষক কর্মচারী আছে কলেজে যাদের কলেজ ফান্ড থেকে বেতন দেওয়া হয়। শান্তনু দুজনকে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু, তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় না করায় তাদের নেওয়া হয়নি। তারপর থেকেই আমার সঙ্গে দূরত্ব তৈরী হয়। কলেজের উন্নয়নে মিটিংয়ে প্রথম দিকে উপস্থিত থাকলেও পরে আর সেভাবে আসতেন না শান্তনু।”

Shantanu Banerjee: বলাগড় শান্তনুকে চেনে ‘পাকা মাগুর’ নামে, অগাধ সম্পত্তির মালিককে কেন ডাকা হত এই নামে?

বিষয়টি নিয়ে বলাগড় কলেজের বর্তমান সভাপতি মহিরুল হক বলেন,”আমি সবে সভাপতি হয়েছি। কলেজের সব বিষয়ে এখনো সঠিক জানা নেই। আগে কি হয়েছে সে বিষয়েও ঠিক জানি না। কয়েকটা বিষয়ে প্রশ্ন মনে আসায় অধ্যক্ষকে মেল করে জানতে চেয়েছি।”

Shantanu Banerjee SSC Scam: চাকরি থেকে সাসপেন্ড নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত শান্তনু, নোটিস বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার

শান্তনুর পর বলাগড় কলেজের কিছুদিনের জন্য সভাপতি ছিলেন বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। পরে তার প্রতিনিধি হিসাবে মহিরুল হককে সভাপতি করা হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version