জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আর ক’দিন পরেই শুরু হতে চলেছে ‘দুর্গাপুজো’! পাঠক, এই বাক্যটি পড়ে আপনারা কি একটু চমকে উঠলেন? না, চমকে ওঠার কিছু নেই। ‘দুর্গাপুজো’ই শুরু হতে চলেছে বইকি! এ মাসের শেষসপ্তাহে এই পুজো। চৈত্রমাসের শুক্লপক্ষের বাসন্তী পুজোই (বাঙালির) প্রকৃত দুর্গাপুজো (durga puja)। আর এর পরের দিনই অন্নপূর্ণা পুজো। দেবী অন্নপূর্ণাও দেবী দুর্গারই এক রূপ। 

আরও পড়ুন: Basanti Puja: আর মাত্র সপ্তাহখানেক পরেই শুরু হতে চলেছে ‘দুর্গাপুজো’! জেনে নিন এর দিনবদলের কারণ…

বাসন্তী পুজো ২৮ মার্চ মঙ্গলবার (সপ্তমী)
অন্নপূর্ণা পুজো ২৯ মার্চ বুধবার, (অষ্টমী)
এর পরদিন নবমী, যেটি রামনবমী নামেই পরিচিত।
 
বলা হয়, গৃহে অন্নপূর্ণার পুজো করলে কখনওই অন্নের অভাব হয় না। কেন একথা বলা হয়? তার কারণ আছে। এর পিছনে আছে পৌরাণিক কাহিনিও। শিবের সঙ্গে ঝগড়া হল পার্বতীর। শিব বললেন, এ জগতের সবই মায়া, ফলে কোনও কিছুই সেই অর্থে প্রয়োজনীয় নয়। পার্বতী বললেন, মোটেই তা নয়, যতক্ষণ দেহধারণ ততক্ষণ জগৎকে মায়া বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না! এই বলে দেবী পার্বতী রাগ করে চলে গেলেন। সঙ্গে ছিল নিজের প্রয়োজনের খাবারটুকু। সেটুকু নিয়েই তিনি অন্তর্হিত হলেন। 

আরও পড়ুন: Sankha Rituals: বাড়িতে শঙ্খ রয়েছে? শাঁখ রাখার সময় এই বিশেষ নিয়ম না মানলে সংসারে আসবে অশান্তি

এদিকে দেবী পার্বতীর অনুপস্থিতিতে সর্বত্র দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেল। দেবতারা পর্যন্ত খেতে পাচ্ছেন না! ব্যাপারস্যাপার দেখে শিব বুঝলেন, সব কিছু মায়া বলে হয়তো তিনি ঠিক করেননি। তিনিও ধীরে ধীরে খাবারের গুরুত্ব টের পেলেন। টের পেলেন পার্বতীর রাগেরও। তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন, কোথাও কোনও খাদ্য নেই। তবে তিনি জানেন, একমাত্র বারাণসীতেই সদাসর্বদা অন্ন মেলে। তাই বারাণসীর দিকে রওনা দিলেন। কিন্তু বারাণসীতে গিয়ে শিবের আর একবার অবাক হওয়ার পালা। তিনি দেখলেন, সেখানে রান্নাঘর সামলাচ্ছেন স্বয়ং পার্বতী। শিব তখন তাঁর ভিক্ষাপাত্র নিয়ে দেবী পার্বতীর সামনেই হাজির হলেন। দেবী তাঁকে অন্ন দিলেন। সেই থেকেই দেবী পার্বতী পরিচিত হলেন অন্নপূর্ণা নামে। অন্নের দেবী হিসেবেই। 

বঙ্গদেশে অন্নপূর্ণা পুজো কে শুরু করেন?

বলা হয়, বঙ্গদেশে অন্নপূর্ণা পুজো শুরু করেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের পূর্বজ ভবানন্দ মজুমদার। তবে অন্য কাহিনিও শোনা যায়। শোনা যায়, কৃষ্ণচন্দ্রের হাতেই অন্নপূর্ণা পুজোর শুরু। এর পিছনেও গল্প আছে। 

নির্ধারিত দিনে কর মেটাত না পারায় মুর্শিদাবাদের নবাবের হাতে বন্দী হন রাজা। যখন ছাড়া পান ততদিনে দুর্গাপুজো চলে গিয়েছে। তা নিয়ে রাজার খুব মন খারাপ। এবার তা হলে মায়ের পুজো হল না? তখন দেবী অন্নপূর্ণা স্বপ্নে দেখা দেন রাজাকে। বলেন, বসন্তের এই তিথিতে তাঁর পুজো করলেও তিনি (মা) খুশি হবেন, আর তাতে রাজার দুর্গাপুজোরই ফললাভ। সেই স্বপ্ন পেয়েই রাজা অন্নপূর্ণার আয়োজন করলেন। তবে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের এই কাহিনিটি ইদানীং জগদ্ধাত্রীপুজোর শুরুর কাহিনির সঙ্গেও অন্বিত। কী ভাবে যেন এটি অন্নপূর্ণা পুজোর সঙ্গেও জুড়ে গিয়েছে। 

(Zee 24 Ghanta App দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির লেটেস্ট খবর পড়তে ডাউনলোড করুন Zee 24 Ghanta App) 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version