এই সময়, ঝাড়গ্রাম: রোজকার মতো গোপীবল্লভপুরের জঙ্গলে শুকনো কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন মহিলা। হঠাৎ কানে আসে শিশুর কান্নার আওয়াজ। সবাই মিলে খুঁজতে শুরু করেন। দেখা যায়, জঙ্গলে পড়ে এক সদ্যোজাত! তাকে ছেঁকে ধরেছে লাল পিঁপড়ে দল। এ দৃশ্য চোখে পড়তেই শিশুটিকে কোলে তুলে নেন এক মহিলা। জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে পুলিশের সহযোগিতায় শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে।

Jhargram Tourism : পর্যটক টানতে বাড়তি জোর, ঝাড়গ্রামের জুওলজিক্যাল পার্কে চালু সেলফি জোন
চিকিৎসার পর শিশুটি সুস্থ হলে তাকে পাঠানো হয় মানিকপাড়া নিবেদিতা গ্রামীণ কর্মমন্দিরের দত্তক হোমে। মৃত্যুকে জয় করার জন্য তার নাম রাখা হয় ‘জয়দীপ’। সোমবার সেই জয়দীপই পেল নতুন বাবা-মা। শুধু তাই নয়, তার নতুন ঠিকানা হল কানাডায়। হোমের অনাথ শিশুদের দত্তক নেন অনেকেই। ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবার জয়দীপ রওনা দিল কানাডার পথে। জয়দীপের বাবা কানাডার টরেন্টো শহরের বাসিন্দা ক্রিস্টোফার ফিলিপ লালোর ও মা প্রিয়াঙ্কা জোয়ানা রেগো।

Street Dog : নিয়ম মেনে পথকুকুরদের খাওয়াতে পারবেন গৃহস্থরা: বম্বে হাইকোর্ট
ক্রিস্টোফারের জন্ম কানাডাতে হলেও প্রিয়াঙ্কা ভারতীয় বংশোদ্ভুত। পেশায় দু’জনই অর্থনৈতিক বিশ্লেষক। এমলি নামে তাঁদের এক পুত্রসন্তানও রয়েছে। কয়েক বছর আগেই তাঁরা একটি শিশু দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো তাঁরা অনলাইনে আবেদনও করেন। সোমবার মানিকপাড়ার নিবেদিতা গ্রামীণ কর্মমন্দিরের দত্তক হোম থেকে তাঁরা জয়দীপকে পেলেন।

Jhargram Elephant Attack : হাতির হানায় মৃত ৩, এক সপ্তাহে মোট ৭! আতঙ্ক ঝাড়গ্রামে
কাগজপত্রে স্বাক্ষর করার পর ঝাড়গ্রাম জেলা ‘চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি’র চেয়ারপার্সন মানসী দাস রায়ের উপস্থিতিতে জয়দীপকে হস্তান্তর করা হয়। ক্রিস্টোফার বলেন,’দীর্ঘদিন পর স্বপ্ন পূরণ হল। জয়দীপ ও এমিলকে নিয়েই আমাদের বাকি জীবন কেটে যাবে। ওরা ভালো মানুষ হোক এটাই চাইব।’ শুধু জয়দীপ নয়, হোম থেকে আরো ছ’জন অনাথ শিশু তাদের নতুন করে বাবা-মা পাচ্ছে।

Mamata Banerjee : হাতি রুখতে মমতার কাছে আট দফা দাবি
জয়দীপ ছাড়াও রয়েছে ৩ জন ছেলে ও ৩ জন মেয়ে। এরা খুব শীঘ্রই কানাডা, স্পেন ও ইতালির পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড, কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনাও যাবে। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়ালা বলেন,’অনাথ শিশুদের দত্তক নেওয়ার ফলে তারা পরিবার ও বাবা-মা পাচ্ছে। আমরাও চাই, এই শিশুরা সুন্দর ভাবে সমাজে বেড়ে উঠুক।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version