চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার পাড়া থানায়। জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগেই এক রেলকর্মীর সঙ্গে অনলাইনে বন্ধুত্ব পাতান এক মহিলা। ৫৭ বছরের ওই রেলকর্মীর কথায়, মেসেঞ্জারে তাঁদের কথা শুরু হয়। একদিন ওই মহিলার সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলেন তিনি।
সেই সময় ওই মহিলা প্রথমে নিজে নগ্ন হন। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি ওই কর্মীকে নগ্ন হওয়ার প্রস্তাব দেন। ওই কর্মীও উত্তেজনার বশে সেই আবেদনে সাড়া দেন। এদিকে ওই মহিলা এরপরেই ওই ভিডিয়োটি রেকর্ড করা শুরু করেন। জানা গিয়েছে, রেকর্ডিংয়ের বিষয়টি সামনে আসার পরেই ভয় পেয়ে ওই কলটি থেকে বেরিয়ে আসেন ৫৭ বছরের এক ব্যক্তি।
তাঁর দাবি, এরপরেই তিনি হোয়াটসঅ্যাপে ওই কলের ভিডিয়ো পেতে শুরু করেন। যেখানে দাবি করা হয়, অর্থ না দিলে তাঁদের ভিডিয়ো ফুটেজটি ভাইরাল করে দেওয়া হবে। প্রথমে তাঁর কাছে ৩২ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হয়।
ওই রেলকর্মীর অভিযোগ, তাঁর থেকে ধাপে ধাপে মোট পাঁচ লাখ টাকা চাওয়া হয়। তিনি সম্মান বাঁচাতে সেই অর্থ দিয়েও দেন। কিন্তু, এরপরেই ব্ল্যাকমেল না থামায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ওই ব্যক্তি।
ঠিক কী ঘটেছে?
ওই ব্যক্তি বলেন, “প্রথমে ওই মহিলা মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করেছিল। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এরপরেই সে আমাকে ভিডিয়ো কলের প্রস্তাব দেয়। আমি তাতে রাজি হয়েছিলাম। ভিডিয়ো চলাকালীন সে নিজে নগ্ন হতে শুরু করে। আমাকেও একই প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি অল্প দুর্বল হতেই আমার ভিডিয়ো রেকর্ড করা শুরু করে।”
তাঁর সংযোজন, “এরপরেই চলে ব্ল্যাকমেল পর্ব। আমাকে ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন করা হয়। প্রতিনিয়ত চলত হুমকি। আমি প্রথমে বেশ কিছু টাকা দিই। কিন্তু, এরপরেও হুমকি থামেনি। এরপর আমি বুঝতে পারি যদি থানার দ্বারস্থ না হই সেক্ষেত্রে এই ব্ল্যাকমেল পর্ব কোনওদিন শেষ হবে না।”
জানা গিয়েছে, ওই রেলকর্মীর অভিযোগের উপর ভিত্তি করে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কে বা কারা এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন? তা অনুসন্ধান করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
