এই সময়: ওএমআর শিট বিকৃতির ঘটনায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) এক মহিলা আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে খোঁজখবর শুরু করল সিবিআই। ওএমআর শিট প্রস্তুত এবং মূল্যায়নকারী সংস্থা ‘নাইসা’র প্রাক্তন কর্তা নীলাদ্রি দাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর ওই আধিকারিকের বিষয়ে অনেক নতুন তথ্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। জানা গিয়েছে, এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যের সঙ্গে নীলাদ্রির যোগাযোগের মাধ্যম ছিলেন ওই মহিলা আধিকারিক।

Recruitment Scam : নীলাদ্রির সংস্থা: ঢালাও প্রশংসা শান্তিপ্রসাদের
ওএমআর শিটে কার নম্বর বাড়াতে হবে, কার নম্বর কমাতে হবে, সুবীরেশের কথামতো তা ঠিক করে দিতেন ওই আধিকারিকই। এ ভাবেই টেট উত্তীর্ণদের তালিকায় নাম উঠত অযোগ্যদের। ওই আধিকারিকের নাম ইতিমধ্যেই এসএসসির নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলার চার্জশিটে রয়েছে। প্রয়োজনে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপও করতে পারেন গোয়েন্দারা। সুবীরেশ এবং নীলাদ্রির জুটির রসায়ন জানতে এ বার ওই মহিলার আধিকারিককে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হতে পারে।

OMR Sheet : নীলাদ্রির সংস্থার হাতেই ছিল ওএমআর-মূল্যায়ন, টেন্ডারে ভুয়ো শংসাপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ
আপাতত এসএসসির গ্রুপ-সি মামলায় গ্রেপ্তার করা হলেও, প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চপ্রাথমিক, গ্রুপ-ডি, এমনকী নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট বা উত্তরপত্র কারচুপির সঙ্গেও নীলাদ্রি যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ। কী ভাবে এই দুর্নীতি হয়েছে, তা দেখতে গিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, এসএসসির তৎকালীন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ওই মহিলা আধিকারিককে বিশেষ কিছু দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

Recruitment Scam : এসএসসি-র নকল ওয়েবসাইট, গুগুলকে ইমেল CBI-এর
সরকারি পদে কাজ করলেও সুবীরেশের কথাতেই তিনি চলতেন। যে সব অযোগ্য প্রার্থীর তালিকা বিভিন্ন এজেন্ট মারফত সুবীরেশের কাছে আসত, সেগুলি ‘শর্ট লিস্ট’ করতেন ওই মহিলা আধিকারিক। টাকাপয়সার লেনদেন সম্পূর্ণ হলে সুবীরেশের নির্দেশে ওই তালিকা নিয়ে নীলাদ্রির সঙ্গে যোগাযোগ করতেন তিনি। বাকি দায়িত্ব সামলাতেন নীলাদ্রি।

Recruitment Scam : অয়নের চাকরি-চক্রে যোগ সরকারি কর্মীর, দাবি ইডি-র
টাকার লেনদেনের বিষয়ে মহিলা আধিকারিক কিছু জানতেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। তদন্তের শুরুর দিকে ওই মহিলা আধিকারিকের বাড়িতে হানাও দেন গোয়েন্দারা। সেখান থেকে বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। গত অক্টোবর মাসে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ১২ জনের বিরুদ্ধে যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল, তাতে নাম রয়েছে তাঁর। যদিও তিনি এখনও এসএসসিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত। গোয়েন্দারা মনে করছেন, সুবীরেশ এবং নীলাদ্রি জুটির অজানা তথ্য পাওয়া যেতে পারে ওই মহিলা আধিকারিকের থেকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version