এই সময়: বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার মোবাইল পরীক্ষা করে একশোরও বেশি অডিয়ো ফাইল উদ্ধারের দাবি করেছিল সিবিআই। শনিবার আলিপুর বিশেষ আদালতে জীবনকৃষ্ণকে পেশ করে ফের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানান, বিধায়কের মোবাইলে অনেক কিছুই পাওয়া গিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও চলছে। যদিও আদালত থেকে বেরনোর সময় সিবিআইয়ের তত্ত্ব খারিজ করে জীবনকৃষ্ণ দাবি করেন, তাঁর মোবাইলে কিছুই পাওয়া যায়নি।

Jiban Krishna Saha : জীবনের ফোনে গুচ্ছ গুচ্ছ অডিয়ো ফাইল! তৃণমূল বিধায়কের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করতে চায় CBI
এদিন সওয়াল-জবাব শেষে জীবনকৃষ্ণকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, আপনার ফোন থেকে কি কিছু পাওয়া গিয়েছে? তিনি মাথা নাড়িয়ে বলেন, ‘না, না, না।’ তার আগে দুপুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিজাম প্যালেস থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবানে জীবন বলেন, ‘আমি কোনও অন্যায় করিনি। দল পাশেই রয়েছে।’

Jiban Krishna Saha : হাতের ইশারা, জীবন ওড়ালেন দুর্নীতি-যোগ
জীবনের সিবিআই হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ, রবিবার। কিন্তু তাঁকে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই আলিপুর আদালতের বিচারকের বিশেষ অনুমতিতে এ দিন আদালতে পেশ করা হয়। এ দিন আদালতে সওয়াল-জবাবে সিবিআইয়ের কৌঁসুলি মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতিতে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন।

Kuntal Ghosh : স্ত্রী-কে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি: কুন্তল
সিবিআইয়ের তরফে বলা হয়, রীতিমতো ‘দপ্তর’ খুলে বসেছিলেন দুর্নীতির টাকা তোলার জন্য। কেবল মাত্র স্কুলে চাকরিতেই নয়, ভুয়ো প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট বের করে দিতেও টাকা নিতেন তিনি। এবং এসব বিধায়ক হওয়ার আগে থেকেই জীবন করছেন বলে দাবি গোয়েন্দাদের।

এ দিন আদালতে জীবনকৃষ্ণের জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। জামিনের বিরোধিতা করে সিবিআইয়ের কৌঁসুলি বিচারককে বলেন, ‘তদন্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর ফোন থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণ উদ্ধার করার প্রক্রিয়াও চলছে। এখনই তাঁকে জামিন দিলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে।’

Recruitment Scam : সরকারি অফিসারদের হেফাজতে নিয়ে ‘বৃত্ত সম্পূর্ণ’ করার নির্দেশ
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে জীবনকৃষ্ণের জামিনের আবেদন খারিজ করে আগামী ১১ মে পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এ দিন এজলাসের মধ্যেই জীবনকৃষ্ণের এক রত্তি ছেলে বার বার বাবার কোলে ওঠার জন্য বায়না করতে থাকে। এক সময় কোলে তুলে নেন তিনি। বাবাকে ছেলে প্রশ্ন করে, ‘কবে বাড়ি যাবে বাবা?’ উত্তর না দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন জীবনকৃষ্ণ। এক সময় সে বাবার কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version