কেটেছে ঘূর্ণিঝড়ের ফাঁড়া। অবশেষে বাংলাদেশ ঘেঁষে মায়ানমারের সিতওয়ে বন্দরে গিয়ে আছড়ে পড়েছে মোকা (Cyclone Mocha)। প্রবল শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়ের বলি হয়েছে ছয়জন। বাংলায় কোনও প্রভাব বিস্তার না করতে পারলেও জলীয় বাষ্প শুষে নেওয়ায় চরম গরমে নাভিঃশ্বাস উঠে গিয়েছিল রাজ্যবাসীর। মোকার বিদায়ে এবার সকলেরই প্রশ্ন, এ রাজ্যে স্বস্তির বৃষ্টি নামবে কবে? জবাব দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

Cyclone Mocha : গতিতে উম্পুনকে পিছনে ফেলেই ল্যান্ডফল মোকার

রাজ্যে স্বস্তির বৃষ্টি কবে?

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ১৭ মে থেকে রাজ্যে হাওয়া বদলের সম্ভাবনা। মোকা চলে যাওয়ায় এবার রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে জলীয় বাষ্প। আগামী ১৬ মে অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে ২০ মে অর্থাৎ শনিবার পর্যন্ত রাজ্যে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমে উত্তরবঙ্গে এবং তারপর ধীরে ধীরে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও স্বস্তির বৃষ্টি নামবে।

Cyclone Mocha Landfall Myanmar: বাংলাদেশ নয়, প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মোকা তাণ্ডব চালাচ্ছে মায়ানমারে
যদিও আলিপুর জানাচ্ছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি রয়েছে। বীরভূম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশেই ঘোরাফেরা করবে।

Cyclone Mocha Myanmar : ২১০ কিমি বেগে আছড়ে পড়েছে মোকা, লন্ডভন্ড মায়ানমার! ঘূর্ণিঝড়ের বলি ৩

কলকাতার আবহাওয়া (Kolkata Weather)

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলছে, রবিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৪০ থেকে ৮৭ শতাংশের মধ্যে। অর্থাৎ প্রবল শক্তিশালী মোকার মায়ানমারে ল্যান্ডফলের সময় এ রাজ্যে চরম অস্বস্তি বজায় ছিল। তবে এবার সেই দুর্বিসহ গরম কিছুটা হলেও কাটতে চলেছে।

Digha Beach Cyclone Mocha : মোকা আতঙ্কে এখনও কাঁটা দিঘা বিচের ব্যবসায়ীরা, সমুদ্রে মৎসজীবীদের নামায় নিষেধাজ্ঞা
আগামী বুধবার থেকে বাংলাদেশ লাগোয়া জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দুই ২৪ পরগনা এবং কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মালদা, দুই দিনাজপুরে।

Bankura Weather​ : বেড়েই চলেছে তাপপ্রবাহ, ‘মোকা’ আসার খবরেও স্বস্তি নেই জেলাবাসীর

আমফানকেও টেক্কা মোকার

প্রসঙ্গত, ১৪ মে রবিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় হিসাবে মোকা বাংলাদেশের কক্সবাজারের উপর দিয়ে বয়ে যায়। এরপর বেলা ১২টা নাগাদ তা আছড়ে পড়ে মায়ানমারের সিতওয়ে উপকূলে। তখন ঝড়ের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২১০ কিলোমিটার। শক্তিতে মোকা আমফানকেও টেক্কা দিল, তা বলাই বাহুল্য। সাধারণ ঘূর্ণিঝড় থেকে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে মোকা সময় নিয়েছিল ২৪ ঘণ্টা। তার পরের ১৮ ঘণ্টায় তীব্র ঘূর্ণিঝড় মোকা পরিণত হয় সুপার সিভিয়ার সাইক্লোনে। যা কার্যত তছনছ করে ফেলেছে মায়ানমারের উপকূলবর্তী এলাকা। প্রচুর মানুষ গৃহহীন। মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ছয়জনের। আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version